বেনাপোল কাস্টমসে সিঅ্যান্ডএফ স্টাফদের ৩ ঘণ্টা কর্মবিরতি

বেনাপোল কাস্টম হাউসবেনাপোল কাস্টমস হাউসে একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের বিন লক ও এক কর্মচারীর কাস্টমস সরকার পারমিট বাতিলের প্রতিবাদে ৩ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন। এসময় কাস্টমস হাউস ও বন্দরে কোনও কার্যক্রম হয়নি। বন্ধ ছিল আমদানি-রফতানি বাণিজ্যও।
সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিঅ্যান্ডএফ স্টাফদের ডাকে এ কর্মবিরতি পালন করা হয়।
এদিকে মঙ্গলবার এ ঘটনায় বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন জরুরি সভার আয়োজন করেছে।
এদিকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীর শুল্ক ফাঁকিতে সহযোগিতা না করায় সে কাস্টমস কর্মকর্তার গায়ে হাত তুলেছে। এতে তার ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাস্টমস প্রশাসন এ ব্যবস্থা নিয়েছেন।

জানা যায়, বেনাপোলের নীরা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী রিপন হোসেন গত ২ আগস্ট একটি মেশিনারি পণ্যের ফাইলে কাজ করাতে যায় কাস্টমসে। তাকে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ফাইলটি নিয়ে ঘোরানো হয়। ৭ সেপ্টেম্বর সকালে আবারও শুল্কায়ন গ্রুপ-৪ এর কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামের সঙ্গে পণ্য ছাড়ানো নিয়ে তার তর্ক-বিতর্ক হয়।

ওই দিন দুপুরের পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেন, অবৈধ সুবিধা না দেওয়ায় ওই কর্মচারী কাস্টমস কর্মকর্তার গায়ে হাত তুলেছে। এ ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ওই কর্মচারীর কাস্টমস সরকার পারমিট কার্ড বাতিল ও সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্সের বিন লক করে দেয়। কাস্টমস কর্মকর্তারা মিছিল করে সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরে ঈদের লম্বা ছুটির কারণে কমিশনারের আশ্বাসে তারা কাজে যোগ দেন। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সিঅ্যান্ডএফ স্টাফরা প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। এর আগে এ ঘটনায় ৮ সেপ্টেম্বর এক ঘণ্টা কর্মবিরতি করে স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন। দীর্ঘ দিনেও বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কোনও সুরাহা না করায় আবারও সিএন্ডএফ স্টাফরা আন্দোলনের ডাক দেন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাসির হোসেন জানান, বেনাপোল বন্দর থেকে সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ে প্রধান ভূমিকায় রয়েছে সিঅ্যান্ডএফ স্টাফরা। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের কোনও সন্মান নেই। আমদানি পণ্য ছাড় করানোর কাজে কোনও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানি ও নাজেহাল হতে হয়। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় একটি লাইসেন্সের বিন লক ও তাদের এক কর্মচারীর কাস্টমস সরকার পারমিট বাতিল করে। তাদের বিরুদ্ধে মারধরের মিথ্যা অভিযোগ আনে। এর প্রতিবাদে এ কর্মবিরতি ডাকা হয়েছে।

দাবি না মানলে পরবর্তীতে বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার ফিরোজ উদ্দিন জানান, ওই সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী অনিয়ম করে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করছিলেন। এসময় তার সে কাজে সহযোগিতা না করায় আমিরুল ইসলাম নামে কাস্টমসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে তিনি মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। এতে ওই সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা তিতুমির আহম্মেদ জানান, সিঅ্যান্ডএফ স্টাফরা কাজ না করায় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এপথে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। ১২টার পরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক হয়েছে।

এদিকে, ঈদের ছুটি থাকায় বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে পণ্য জট সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে আবার কাজ বন্ধ হয়ে পড়ায় বন্দরে পণ্যজট আরও বাড়ছে।

/এআর/