টিসিবির খুলনা আঞ্চলিক অফিস প্রধান মো. রবিউল মোর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নানা কারণে খুলনা জোনের আওতাধীন খুলনা ও বাগেরহাট জেলার ২৭ জন ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করতে সুপারিশ করা হয়েছে। কেন্দ্রে থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পরই এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।
বাতিলের সুপারিশ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- খুলনা মহানগরীর খালিশপুর চিত্রালী বাজারের রাজু এন্টারপ্রাইজ এবং ময়লাপোতা ফারাজিপাড়ার আকবর স্টোর। এ দুটি প্রতিষ্ঠান ঈদের আগে টিসিবির তেল ও ডাল মজুদ করাসহ দোকানের মাধ্যমে কালোবাজারে বিক্রি করার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধরা পড়ে।
এছাড়া পণ্য উত্তোলন না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে লাইসেন্সে বাতিলের সুপারিশের তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সবই বাগেরহাট জেলার। এগুলো হচ্ছে- বাগেরহাট সদর উপজেলার আমলাডাঙ্গার মেসার্স রহমত এন্টারপ্রাইজ, যাত্রাপুর বাজারের মেসার্স কল্পনা ট্রেডার্স, নাগেরবাজারের মেসার্স ফরিদা আক্তার বানু, কান্দাপাড়া বাজারের মেসার্স সোনিয়া এন্টারপ্রাইজ ও বাপজার মেইন রোড়ের মেসার্স আকিব ট্রেডার্স, কচুয়া উপজেলা বাজারের মেসার্স নিশি এন্টারপ্রাইজ ও কচুয়া চাপকাঠি বাজারের মেসার্স কমলেশ দাস, শরণখোলার উপজেলার মেসার্স ইনজাম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রায়েন্দা বাজারের মেসার্স রায়েন্দা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স স্বপন কুমার নাগ, মেসার্স শামীম এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সালমা এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অনিমা এন্টারপ্রাইজ, মোড়লগঞ্জ উপজেলার মেসার্স প্রভাতি ট্রেডার্স ও মেসার্স জ্যোতি এন্টারপ্রাইজ, চিতলমারী উপজেলা বাজারের মেসার্স ইমরান এজেন্সি, মেসার্স প্রফুল্ল কন্ট্রাকশন ও মেসার্স উৎপল চন্দ্র সাহা, মংলা উপজেলার মেসার্স পরমেশ এন্টারপ্রাইজ, মোল্লাহাট উপজেলা বাজারের রাহা এন্টারপ্রাইজ, মোল্লা এন্টারপ্রাইজ ও শিকদার এন্টারপ্রাইজ, রামপাল উপজেলার মৌরি এন্টারপ্রাইজ, ফকিরাহাট উপজেলা বাজারের মেসার্স অনিস ট্রেডার্স এবং মেসার্স রহমান এন্টারপ্রাইজ।
উল্লেখ্য, টিসিবি খুলনা আঞ্চলিক অফিস খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা, পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর, রাজবাড়ি, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরিয়াতপুর এবং পিরোরপুরসহ ১৪টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ জেলাগুলোতে টিসিবির তালিকাভুক্ত ৪৫০ জন ডিলার রয়েছেন।
টিসিবি খুলনার ডিলার মেসার্স এমএস ব্রাদার্সের স্বত্ত্বাধিকারী মো. সফিউল্লাহ বলেন, ‘ডিলাররা টিসিবি থেকে উত্তোলন করা সামগ্রী বিক্রি করে ট্রাকের খরচও তুলতে পারেন না। এ কারণে ট্রাকে বাইরের সামগ্রী নিয়ে বিক্রি করে ক্ষতি পুশিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাইরের সামগ্রী বিক্রি অনিয়মের মধ্যে পড়লে বা এ নিয়ে কোনও ধরণের অভিযোগ থাকলে ডিলাররা সে কার্যক্রম বন্ধ করতে রাজি আছেন।’
টিসিবির খুলনা আঞ্চলিক অফিস প্রধান মো. রবিউল মোর্শেদ বলেন, ‘ডিলারদের ন্যায্যমুল্যের সামগ্রী বিক্রি করার জন্য দিয়ে তা পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়। জনবল কম থাকার কারণে সার্বিক বিষয় নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কোনও ধরনের অনিয়ম পেলে বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
আরও পড়ুন-
আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন সজীব ওয়াজেদ জয়
গুলশান হামলার আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে ১৪ লাখ টাকা
/এফএস/