বেনাপোলে আটকে আছে ১৪০ টন কাঁচা মরিচ, কোটি টাকার লোকসানে ব্যবসায়ীরা







বেনাপোল বন্দরকাস্টমসের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে বেনাপোলে ১৪০ টন আমদানিকৃত কাঁচা মরিচ দুই দিন ধরে আটকা পড়ে আছে। এতে আমদানিকারকের প্রায় কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এদিকে ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করে এবং বন্দর থেকে মাল না ছাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছেন,আমদানি পণ্যের বাজার মূল্য যাচাইয়ে এই বিলম্ব হয়েছে। পরে মালামাল খালাস দেওয়া হয়েছে। এখন তারা না নিলে আমাদের করার কিছু নেই।
জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে ৫ জন আমদানিকারক ১০ ট্রাকে প্রায় ১৪০ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ ভারত থেকে আমদানি করেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। কাঁচা মরিচ আমদানির সময় কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান ওই পণ্যের চালান প্রথমে আমদানিতে বাধা দেন। পরে আবার অনুমতি দিলে মাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। এসময় তিনি কাঁচা মরিচের বাজার মূল্য যাচাইয়ের অযুহাত দিয়ে ওইদিন পণ্য খালাস দেননি। পরের দিন (১৯ সেপ্টম্বর) দুপুর ১টা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তও জানাননি। এতে গরমে মরিচ পঁচে খাবারের অনেকটা অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নেয় মাল বন্দর থেকে ছাড় করাবেন না এবং কাস্টমসের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

কাঁচামরিচ আমদানি কারকের প্রতিনিধি বেনাপোল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী উজ্জ্বল জানান, গত সপ্তাহেও কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে যার প্রতি কেজির আমদানির মূল্য .৩৫ সেন্ট মূল্যে। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে জানান প্রতি কেজি .৭০ সেন্ট (অর্থ্যাৎ দ্বিগুন) মূল্য করতে হবে।

এছাড়া বাজার মূল্য যাচাই করার কথাও বলেন তিনি। এতে দুইদিন আমদানি পণ্য আটকে থেকে মাল পঁচে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছেন কেজি প্রতি .৪০ সেন্ট মূল্যে মাল খালাস নিতে। প্রথমে যদি তিনি এই সিদ্ধান্ত দিতেন তাহলে এই লোকশান হতো না।

বিষয়টি জানার জন্য কাস্টমস যুগ্ম কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ জানান, পণ্যের বাজার মূল্য যাচাইয়ে এই বিলম্ব হয়েছে। পরে মালামাল খালাস দেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকেরা হলেন-আশিক এন্টারপ্রাইজ, হাফিজ এন্টারপ্রাইজ,ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ, আরজি এন্টারপ্রাইজ ও মা ট্রেডিং।

/এআর/