সম্প্রতি, আমদানিকারক মেসার্স ল’রিয়েল বাংলাদেশ লিমিটেড ভারত থেকে ৭ হাজার ৯শ ৭৪ কার্টন বিখ্যাত গার্নিয়ার ব্র্যান্ডের একটি পণ্য আমদানি করে। চালানটি খালাসের জন্য বেনাপোল কাস্টম হাউসে বিল অব এন্ট্রি (বিওএ) দাখিল করা হয় (নম্বর সি- ৫৬৯৪১ তারিখ- ২১/০৯/১৬)। কিন্তু বেনাপোলে বিএসটিআইয়ের কোনও অফিস না থাকায় পণ্য চালানটি আটকে আছে বন্দরে। আমদানিকারক সূত্র জানায়, পণ্য চালানটির কিছু আইটেম বিএসটিআইয়ের টেস্ট করা দরকার। বেনাপোলে বিএসটিআই অফিস না থাকায় তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সূত্রটি জানায়, খুলনা থেকে বিএসটিআই কর্মকর্তারা ঠিকমতো বেনাপোল বন্দরে আসেন না। বিএসটিআইকে চিঠি দিয়ে জানানো হলে এবং গাড়ি পাঠালে তারা বেনাপোল বন্দরে এসে টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করেন। তারা না এলে এ টেস্ট করা সম্ভব হয় না।
এ বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের আমদানি-রফতানি সাব-কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, ‘বেনাপোল বন্দরে বিএসটিআইয়ের কোনও স্থায়ী অফিস না থাকায় বিএসটিআই কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে জানানো হলে ও গাড়ি পাঠালে তারা বেনাপোল বন্দরে এসে টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করেন এবং এর রিপোর্ট দিতে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় পর্যন্ত লেগে যায়।’ তিনি বলেন, ‘রিপোর্ট নিতে অনেক সময় লেগে যাওয়ায় আমদানি করা পণ্যের ওয়্যারহাউজ ডেমারেজ (ক্ষতিপূরণ), পণ্যের গুণগতমান নষ্ট ও ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ সুদ টানতে হিমসিম খান ব্যবসায়ীরা।’
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘খুলনা থেকে সপ্তাহের রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার বিএসটিআই কর্মকর্তারা যদি বেনাপোল বন্দরে এসে টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করতেন, তাহলে আমদানিকারকদের আমদানি করা মালামাল দ্রুত খালাস নিতে এবং ওয়্যারহাউজ ডেমারেজ, পণ্যের গুণগতমান নষ্ট এবং ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ সুদের হাত থেকে রেহাই পেতেন তারা। এ সব ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার মূলত পরোক্ষভাবে ক্রেতা-সাধারণকেই বহন করতে হয়।’
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়, বেনাপোল স্থলবন্দরে বিএসটিআইয়ের স্থায়ী অফিস জরুরিভাবে স্থাপন করা প্রয়োজন। যে সব পণ্য বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে ভারতে রফতানি হয়ে থাকে, তার মধ্যে টেস্টকৃত পণ্যের রিপোর্ট ভারতের সংশ্লিষ্ট ল্যাব থেকে ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে পেট্রাপোল কাস্টমসে ই-মেইলে আসে। কিন্তু আমদানি পণ্যের বিএসটিআই টেস্ট রিপোর্ট পেতে প্রায় ৩ সপ্তাহ সময় লেগে যায়।
সে কারণে দেশের স্বার্থে অনতিবিলম্বে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে বিএসটিআইয়ের স্থায়ী অফিস স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী মহল।
/এবি/