খুলনায় মেডিক্যাল কলেজে নষ্ট ব্লাড ব্যাগ!

খুলনায় বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া ২২ ব্যাগ রক্ত জব্দ করেছে র‌্যাবের সদস্যরা। বুধবার (১২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে  র‌্যাব-১ এর ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ আহমেদ ও র‌্যাব-৬ এর সহকারী পুলিশ সুপার এনায়েত মান্নানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। দুপুর পৌনে ২টা নাগাদও অভিযান চলছিল বলে জানান কর্মকর্তারা।গাজী-মেডিক্যাল-কলেজ হাসপাতাল

র‌্যাব-১ এর ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে (গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে) কোনও অনুমোদিত ব্লাড ব্যাংক নেই। তারপরও এখান থেকে সংরক্ষণ করা ও নষ্ট হয়ে যাওয়া ২২ ব্যাগ ব্লাড জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া প্যাথলজিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট জব্দ করা হয়েছে। এ সব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়।’

ফিরোজ আহমেদ আরও বলেন, ‘এখানে প্যাথলজি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের স্বাক্ষর ছাড়াই কর্মচারীদের স্বাক্ষরে রিপোর্ট দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।’নষ্ট ব্লাড ব্যাগ

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে একটি আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) রয়েছে যেখানে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের অনুমোদন নিয়ে রোগী রাখার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে অনুমোদন ছাড়াই বেশ কিছু রোগী সেখানে আছে।’

তিনি বলেন, ‘ এ ঘটনায় জড়িত থাকায় পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন- হাসপাতালের মালিক গাজী মিজানুর রহমান, পরিচালক ডা. সুভাষ কুমার শাহা,  উপ-পরিচালক (প্রসাশন) ডা. এবিএম মাহবুবুল হক, ল্যাব ইনচার্জ জেমস টি সরকার এবং ল্যাবের টেকনোলজিস্ট বাহারুল ইসলাম।  এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’ মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট

র‌্যাব-৬ এর সহকারী পুলিশ সুপার এনায়েত মান্নান জানান, র‌্যাব-১ এর তথ্যের ভিত্তিতে তারা এখানে অভিযানে সহযোগিতা করছেন। এখন পর্যন্ত ওই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অনেক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্যাথলজি বিভাগের সুপারভাইজার ডা. এসএম খালিদুজ্জামান জানান, তিনি যখন হাসপাতালে থাকেন তখন তার স্বাক্ষরের মাধ্যমে রিপোর্টগুলো দেওয়া হয়। এর বাইরে অন্য সময় সহকারীরা চেক বাই হিসেবে স্বাক্ষর করে থাকে। সেক্ষেত্রে কোনও সিল ব্যবহার করা হয় না।

গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মালিক গাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে হাসপাতাল পরিচালনার চেষ্টা করছি। কিন্তু কর্মচারীরা আন্তরিক না হওয়ায় কিছু অনিয়ম ঘটেছে যার কারণে  হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া উচিত।’

/এআর/এফএস/