পুলিশের দাবি, দু’পক্ষের গোলাগুলিতে আনিসুর রহমান নিহত হন। কিন্তু নিহতের পরিবারের দাবি, গত ৩০ অক্টোবর ভোরে পুলিশ তাকে লাউড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে মণিরামপুর থানার এসআই কওসার আহত আনিসকে হাসপাতালে ভর্তি করে রেখে যান। রাত ২টা ৫ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আনিসুর রহমান মণিরামপুর উপজেলার লাউড়ি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম জানান, নিহত আনিসুর শ্রমিকদলের শ্যামকুড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
নিহতের ভাই আজিজুর রহমান জানান, তার ভাই আনিস মণিরামপুর বাজারে রড-সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। ৩০ অক্টোবর ভোরে আনিসকে মণিরামপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। সকালে থানায় আনিসকে দেখতে গেলে পুলিশ জানায়- তাকে যশোর ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর তারা যশোর ডিবি অফিসে গিয়ে আনিসের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে আনিসকে ছেড়ে দেওয়া হবে মর্মে পুলিশ ১০ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবিকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করা হয়। এরপর আজ সকালে আনিসের লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আছে খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে আসেন।
মণিরাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার বেগারিতলায় মিজান-মাহফুজ ও আনিসুর গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখান থেকে আনিসুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, নিহত আনিসুরের বিরুদ্ধে কৃষকলীগ নেতা শফি কামাল ও যুবলীগকর্মী শাহীন হত্যাসহ ১২টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
রামেকের নতুন ভবনে রডের বদলে বাঁশ!
/বিটি/