খুলনায় খাওয়ার অনুপযোগী ১০০ মেট্রিকটন চাল জব্দ, ৩টি গুদাম সিলগালা

খুলনায় খাদ্যগুদাম সিলগালাখুলনায় খাদ্যগুদামে র‌্যাবের অভিযানে খাওয়ার অনুপযোগী ১০০ মেট্রিক টন চাল পাওয়া গেছে। এ সময় সেখান থেকে এক শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানকালে তিনটি গুদাম সিল করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ফুলতলা এলাকা থেকে ট্রাক বোঝাই ১৩ হাজার ৬৯০ কেজি চালসহ একজনকে আটক করা হয়। এরপরই বুধবার দুপুরে বৈকালী এলাকায় খাদ্যগুদামে অভিযান চালানো হয়। র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা অভিযান পরিচালনার সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। এই চাল সরকারের ১০ টাকা কেজি মূল্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ছিল বলে জানা গেছে।

র‌্যাব ৬ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান এ ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘রাতে আটক ট্রাক বোঝাই চাল র‌্যাবের হেফাজতে রাখা হচ্ছে। আটক দুইজনের নামে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দণ্ডবিধিতে একটি মামলা করা হবে। এদেরকে থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হবে। আর বৈকালীর খাদ্য গুদমের ৩টি গুদাম (১৮, ২৬ ও ৩২ নং) সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোপন সংবাদে জানা যায় বৈকালী খাদ্য গুদাম থেকে ভালো এক ট্রাক চাল বাইরে নেওয়া হচ্ছে এবং ওই চালের স্থানে খাদ্য অনুপযোগী চাল তোলা হয়েছে। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে র‌্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে ফুলতলা থানার চৌদ্দ মাইল এলাকা থেকে ট্রাক বোঝাই চাল জব্দ করে। এ সময় খলিল নামে একজনকে আটক করা হয়। এই চাল হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা মূল্যের চাল ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।’খুলনায় খাদ্যগুদাম সিলগালা

এনায়েত হোসেন আরও জানান, বয়রা সরকারি খাদ্য গুদামের ২৬ নম্বর গুদামে এই চাল সংরক্ষিত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই চাল উত্তোলন করে খোলাবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় সন্দেহজনক ক্রেতা খলিলকে আটক করা হয়। চালক ও হেলপার ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায়। এরপর খলিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে বুধবার বৈকালীর খাদ্যগুদামে তল্লালি অভিযান চালানো হয়।

এ অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আওয়াল উপস্থিত ছিলেন। অভিযানকালে এখানের ১৮, ২৬ ও ৩২ নম্বর গুদাম তল্লাশি করা হয়। এ সময় ১৮ নম্বর গুদামে ১০০ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যায়। যা ২০১৩ সালের বোরো চাল। কিন্তু এই গুদামে ২০১৬ সালে ক্রয়কৃত বোরো চাল থাকার কথা ছিল। অন্য দুটি গুদামেও পুরনো ও খাদ্য অনুপযোগী প্রচুর চাল পাওয়া যায়। সময় স্বল্পতার কারণে ৩টি গুদামই ম্যাজিস্ট্রেট সিলগালা করেন। এ অভিযানকালে এখানের শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজগরকে গ্রেফতার করা হয়। আজগর ও খলিলকে জিজ্ঞাসাবাদের গুদাম সংরক্ষক, গার্ড, প্রহরী, গ্রেটম্যানসহ বিভিন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নাম জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে এদের বিরুদ্ধে র‌্যাব বাদী হয়ে মামলা করবে। পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্ত চলবে এবং ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত অন্যদের গ্রেফতারের অভিযান চালানো হবে।

র‌্যাব জানায়, গত ৬ অক্টোবর গুদামে সরবরাহকৃত চাল গ্রহণ করেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এই সরবরাহকৃত চালের মধ্যে খাওয়ার অনুপযোগী চাল আছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারী ও তথ্য সংগ্রহ চলছিল।

আরও পড়ুন- 


প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইনের আওতায় এসেছেন: দুদক চেয়ারম্যান

/এফএস/