চাঁদা তোলার প্রতিবাদ করায় হল ছাড়তে হলো!

নার্সিং ইনস্টিটিউ

নবীন বরণের জন্য চাঁদা তোলার প্রতিবাদ করায় যশোর নার্সিং ইনস্টিটিউটের হোস্টেল থেকে ১০ ছাত্রীকে বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৫ নভেম্বর লিখিত এক আদেশে তাদেরকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে হল ছাড়তে বলা হয়েছে। তবে ছাত্রীরা এরই মধ্যে হোস্টেল ছেড়ে দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হোস্টেল ইনচার্জ সেলিনা ইয়াসমিন পুষ্পর চাঁদা তোলার প্রতিবাদ করায় ওই ১০ ছাত্রীর বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বলেও জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

আদেশ হাতে পাওয়ার পর মঙ্গলবার হোস্টেল থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের আশপাশে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছেন।

শাস্তিপ্রাপ্তরা হলেন, ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারির তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী মনিরা ইয়াসমিন, একই বর্ষের কবিতা খাতুন, শ্যামলী আক্তার, রেশমা খাতুন, ইয়াসমিন খাতুন, বেবী খানম, সেলিনা খানম, দীপা বিশ্বাস এবং নার্সিং সায়েন্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দীপ্তি ও দীপালি মজুমদার।

প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগসহ অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে হোস্টেল ইনচার্জ জানিয়েছেন।

একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ২৯ অক্টোবর নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানের খরচ বাবদ হোস্টেল ম্যানেজার রিজিয়াকে ৩১৫ জনের কাছ থেকে ১২০ টাকা হারে চাঁদা তোলার দায়িত্ব দেন ইনচার্জ সেলিনা ইয়াসমিন পুষ্প। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করেন।

তাদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানটিতে সাকুল্যে দশ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। অথচ শিক্ষার্থীদের কাছ তোলা হয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইনচার্জ সেলিনা। এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হন পুষ্প। এ কারণে তিনি ১০ শিক্ষার্থীর ডিউটি বন্ধ করে ১০ নভেম্বরের মধ্যে হোস্টেল ছাড়তে বলেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ইনচার্জ পুষ্প ইচ্ছা মাফিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। তার একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে ছাত্রীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্র হচ্ছেন। এখন বাড়ি থেকে বাড়তি টাকা এনে পড়াশুনা করতে হবে।

তবে পুষ্প ছাত্রীদের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগসহ অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে, জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘ছাত্রীদের বের করে দেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না।

ছাত্রী হোস্টেল থেকে কাউকে বের করে দিতে হলে তদন্ত কমিটি করতে হয়। সেই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’

 

/এসটি/