ভারতে ৫০০ ও হাজার রুপি বাতিল, চেকপোস্টে কমেছে রাজস্ব আদায়

benapole immigration picture

ভারত সরকার হঠাৎ করে ৫০০ ও হাজার রুপির নোট বাতিল করায় ভারতীয় নাগরিকদের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন সেদেশে যাতায়াতকারী বাংলাদেশিরা। এর প্রভাব ইমিগ্রেশনেও পড়েছে। গত কয়েকদিনে দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারতে যাওয়া লোকজনের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এতে করে রাজস্ব আদায় অনেক কমে গেছে।

বরিশালের বাসিন্দা আশিষ কুমার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাচ্চাসহ আমি দিল্লি যাওয়ার পথে জানতে পারলাম ভারত সরকার এক হাজার ও ৫০০ রুপি নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ভীষণ বিপদে পড়ি। ট্রেনের মধ্যে কেউ ওই দেশের বড় টাকার নোট খুচরা করতে চায় না। আমি খাবার পানি পর্যন্ত কিনতে পারিনি। কাছে ডলার, রুপি থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে খাবারের জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে হয়েছে।’

আশিষের মতো অবস্থা বাংলাদেশের হাজারো মানুষের। যারা চিকিৎসা, ব্যবসা, ভ্রমণ বা অন্য কোনও কাজে ভারতে গিয়েছিলেন। বিশেষ করে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়, বলছেন ওপার থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা।

benapole checkpost gate

৫০০ ও হাজার রুপির নোট বাতিল ঘোষণা করার প্রভাব পড়েছে বেনাপোল ইমিগ্রেশন কাস্টমস চেকপোস্টেও। গত কয়েকদিনে দেশের বৃহত্তম এই চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইকবাল হাসান জানান,  ৫০০ ও হাজার রুপির নোট বাতিল করায় বেনাপোল ইমিগ্রেশন কাস্টমসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ভারত যাওয়ার প্রবণতা অনেক কমে গেছে। ভারতে যারা আছে তারাও দ্রুত ফিরে আসছেন।

তিনি আরও জানান, এ পথে প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ হাজার পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত করতেন। বর্তমানে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ভারত থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশিরা তাদের কাছে নানা অভিযোগ করছেন।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. শফিউল্লাহ বলেন, ‘ভারতীয় ৫০০ ও হাজার রুপি বাতিল ঘোষণা করায় আমাদের রাজস্ব আদায় কমেছে। যেখানে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের ভ্রমণকর আদায় হতো। তা এখন অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।’

 /এসটি/