মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবার ওপর হামলা: ১৩ আসামির আত্মসমর্পণ





ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বাবা শাহনুর বিশ্বাসের দুই পা হারানোর ঘটনায় ১৩জন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার তারা ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট কাজি আশরাফুজ্জামানের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করনে। আদালতের বিজ্ঞ বিচার তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।Jhenidah-13-accused-surrender-photo



এর আগে এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) সকালে হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও মো. উল্লাহ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এরপর ঝিনাইদহ পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। পরে মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে মরিয়া হয়।
কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ইমরান আলম জানান, শাহনুরের ওপর হামলার ঘটনায় গত ৬ নভেম্বর তার বড় ভাই সামাউল বিশ্বাস বাদী হয়ে ১৬জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ দুই নম্বর আসামি আজাদ, তিন নম্বর আসামি কোরবান আলী ও ৭ নম্বর আসামি লিখনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে লিখন জামিনে রয়েছেন। বাকি ১৩জন আসামি আজ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আত্মসমর্পণ করতে আসা ১৩জন আসামি হলেন- মামলার প্রধান আসামি কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্ঠভাঙা ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য কামাল হোসেন, মাহাবুবুর বিশ্বাস, আজম, মোতালেব, আবু তালেব, হাসান, বিল্লাল হোসেন, জাহিদ হোসেন, রুহুল আমিন, শিপন ওরফে দুখু, এমদাদুল, আরিফ হোসেন ও বিপ্লব।
হাইকোর্টের জারি করা এই রুলে স্বরাষ্ট্র সচিব পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কালীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ওসিকে বিবাদী করা হয়। রুলে আগামী ২৭ নভেম্বরের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদক দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়।
কালীগঞ্জ থানার এসআই ইমরান আনম জানান, মেয়েকে উত্ত্যক্তের বিষয়ে নয়, সামাজিক কোন্দলের কারণে শাহনুরের ওপর উপরোক্ত ব্যক্তিরা হামলা চালায়। তাদের এজাহারে মেয়ের উত্ত্যক্তের বিষয় কোথাও লেখা নেই।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে দুই মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার বিচার চাইতে গিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে ও শাবল দিয়ে কুপিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নল ভাঙা গ্রামের শাহনুর বিশ্বাসকে আহত করে উত্ত্যক্তকারীরা। পরে মাহবুর ও কামাল মেম্বার শাহনুরের ডান পায়ে গুলি করে। এরপর শাবল দিয়ে বাম পায়ের গোড়ালি থেকে মাংস তুলে নেয় তারা। এ সময় মাহাবুর বলছিল, ‘টাকা যত লাগে আমার লাগবে। খুন করি ফেলা, মামলা মোকদ্দমা কিচ্ছু হবি না।’
/এআর/