খুলনায় শিশু সদনের ৩ শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত দফতরি

খুলনায় সরকারি শিশু সদনের ৩ শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। যৌন হয়রানির শিকার শিশুরা টুটপাড়া মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এতে জড়িত থাকার ওই স্কুলের দফতরি ও প্রহরী বাচ্চু হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় নাগরিকদের বিক্ষোভের মুখে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষও তাকে শোকজ করেছে। অভিযুক্ত বাচ্চু হাওলাদার স্কুলে অস্থায়ী নিয়োগ চুক্তিতে কাজ করছিল।

খুলনা মহানগরীর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রবিবার দুপুরের দিকে টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরিকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছিল। সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি টিম সেখানে যায়। তারা দফতরি কর্তৃক স্কুলের শিক্ষার্থী শিশু সদনের ৩ শিশুকে যৌন হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পায়। এ অবস্থায় স্কুল থেকে দফতরি বাচ্চুকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মহানগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেরদৌস আলম জানান, গত ৪ ডিসেম্বর দফতরি বাচ্চু শিশু সদনের শিশু স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ৩ ছাত্রীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরে তারা বিষয়টি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি কোনও পদক্ষেপ নেননি।

তিনি আরও জানান, ৬ ডিসেম্বর কাউন্সিলিং কার্যক্রমের সময় সহকারী শিক্ষিকা সুলতানা রাজিয়ার কাছে তারা এ ঘটনা সম্পর্কে জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং স্থানীয় লোকজন সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানালেও কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপণ করতে থাকে। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা রোববার দুপুরে স্কুলে এসে বাচ্চুকে অবরুদ্ধ করে।

স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা সুলতানা রাজিয়া বলেন, ৬ ডিসেম্বর কাউন্সেলিং করার সময় শিশু সদনের ৩ শিশু দফতরি কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানায়। এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করা হয়।

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় সানা বলেন, তিনি গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন। সভাপতি খুলনার বাইরে থাকার কারণে পদক্ষেপ গ্রহণে দেরি হয়। কিন্তু স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে স্কুলে বিক্ষোভ করে। পুলিশ এসে বাচ্চুকে আটক ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে সদর থানার সহকারী শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানার সঙ্গে পরামর্শ করে বাচ্চুকে শোকজ করা হয়েছে।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এস এম মাসুদ মাহমুদ বলেন, তিনি বৃহস্পতিবারই ফোনে ঘঁনাটি জেনেছেন। বাইরে থাকার কারণে একটু সময় নিচ্ছিলেন। রবিবার অভিভাবকদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে তিনি খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। সোমবার বৈঠক করে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে অভিযুক্ত ও পুলিশের হাতে আটক স্কুলের দফতরি বাচ্চু হাওলাদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তিনি বিভিন্ন সময় স্কুল চত্বর ফুল ও বিভিন্ন গাছের ফল ছেড়ার কারণে শিক্ষার্থীদের বকা দিতেন। কখনও মারতেনও। কিন্তু যৌন হয়রানি করা হয়নি। তিনি ১ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক। তার অস্থায়ী চাকরী। যা পাওয়ার জন্য স্থানীয় কিছু লোক সক্রিয় রয়েছে। তাই ওই মহলটি তার বিরুদ্ধে  ষড়যন্ত্র করছে।

খুলনা সরকারি শিশু সদনের উপ-তত্ত্বাবধায়ক ফারহানা আফরিন বলেন, শিশু সদনের শিশুরা ওই স্কুলের ছাত্রী। তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার একটি বিষয় জানা গেছে। যা নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। সদনের শিশুদের সঙ্গে কথা বলা হবে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানার পর প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

/ এইচকে/