‘এমন কেন হলো?’

KHULNA PIC-3 (31-12-16)আমরাতো রাজনীতি করিনা, কোনও দাঙ্গা-হাঙ্গামায়ও নেই। স্বাভাবিকভাবে বাসা থেকে বের হয়ে কেন ফিরত পারব না, এমনটি কেন হল। সরকার এর বিচার কী করবে জানি না কিন্তু আমারতো সংসার শেষ হয়ে গেল। আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন শনিবার বেলা পৌনে ১১টায় খুলনায় সন্ত্রসীদের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে নিহত পথচারী শিপ্রা রানী কুণ্ডর স্বামী চিত্তরঞ্জন কুণ্ডু। 

প্রসঙ্গত, খুলনা সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা জেড এ মাহমুদ ডনকে (৪৫) লক্ষ্য করে গুলি চালিছিল দুর্বৃত্তরা। 

তিনি বলেন, ‘ছুটির দিন থাকায় সকালে ছোট বোনের মেয়েকে নিয়ে আমি সরকারি করোনেশন স্কুলে যাই। সেখানে ভাগ্নিকে রেখে হাঁটতে হাটতে হাদীস পার্কের কাছে যাই। এমন সময় খবর আসে শিপ্রা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ খবরে হতবাক হয়ে যাই। ওই সময় বাড়িতে মেয়ে ও তার মা ছিল। মেয়ে ঘুমিয়ে ছিল। আর ওর মা পূজার ফুল কেনার জন্য ইসলামপুর রোডে যায়।’

চিত্তরঞ্জন কুণ্ডু জানায়, তাদের বড় মেয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএসসির ছাত্রী ও ছোট ছেলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। শিপ্রা গৃহিনী ছিল।

শিপ্রার বড় ভাই সুব্রত কুমার নন্দী জানান, নিয়ম করেই পূজা অর্চনা করত শিপ্রা। শনির দশা থেকে মুক্তির জন্য প্রতি শনিবার শনি পূজা পালন করা হয়। এ পূজার জন্য ফুল সংগ্রহের জন্য শিপ্রা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু আর ফিরতে পারেনি সে।

চিত্তরঞ্জন কুণ্ডু বলেন, ‘এ ঘটনার বিচার করার দায়িত্ব সরকারের। আমরা কিছু বুঝতে পারছি না। ময়নাতদন্তের পর শিপ্রার মরদেহ নিয়ে ইসলামপুরের বাসভবন ঘুরিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার রূদাঘরা গ্রামে নিয়ে সৎকার করা হবে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘ও’ (স্ত্রী) ছাড়া এ সংসার ঠেকানো যাবে না। ছেলে-মেয়ে দুটোকে সামলানো কঠিন হবে।’

/এমডিপি/