এলাকাবাসী জানান, শরণখোলা উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি ছগির হোসেন রাজমিস্ত্রির জোগাল (সহযোগী) হিসেবে কাজ করতেন। পরে তিনি একই এলাকার প্রতিবন্ধি সুমী বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় শশুর বাড়ি থেকে ৫ কাঠা জমি উপহার পান তিনি। ওই জমিতেই ঘর বেঁধে সংসার শুরু করেন ছগির। তিন সন্তানের জনক ছগির এক সময় জোগাল (সহযোগী) থেকে রাজমিস্ত্রি হয়ে যান।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের ইচ্ছা তার ছিল আগে থেকেই। কিছুদিন আগে এই ইচ্ছার কথা তিনি জানান নিজের স্ত্রীকে ও শ্বশুর বাড়িতে। কিন্তু রাজমিস্ত্রি ছগিরের এমন কোনও সঞ্চয় ছিল না যা দিয়ে তিনি ভাস্কর্যটি তৈরি করবেন। শেষ পর্যন্ত বিয়ের সময় পাওয়া ৫ কাঠা জমির ৩ কাঠা বিক্রি করে ওই ভাস্কর্য তৈরির সিদ্ধান্ত নেন ছগির।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ছগির আর দেরি করেননি। বিক্রি করে দেন ৩ কাঠা জমি। এরপর ছয় মাস সময় নিয়ে তিনি তৈরি করে প্রায় সাড়ে সাত ফুট উঁচু পাঁচশ কেজি ওজনের বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য।
ছগির আরও বলেন, ‘কিছু পাওয়ার আশায় না, কেবল ভালোবাসা থেকে আমি এটা বানিয়েছি। এবার বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রীকে ভাস্কর্যটি উপহার দিতে পারলেই আমার মনের আশা পূরণ হবে।’
ছগিরের স্ত্রী প্রতিবন্ধী সুমি বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা বানাতে গিয়ে আমাদের কষ্ট হয়েছে, খেয়ে না খেয়ে দিন কেটেছে। কিন্তু দুঃখ নেই। তার (ছগির) মনের আশা তো পূর্ণ হয়েছে, এটাই বড়।’
ছগিরের শ্বাশুড়ি এলাচি বেগম বলেন, ‘ছগির আমাদের দেওয়া জমি বিক্রি করে এই ভাস্কর্য তৈরি করেছে। আমরা এতেও খুশি হয়েছি।’
বঙ্গবন্ধুর প্রতি এমন ভালোবাসার নিদর্শনে মুগ্ধ এলাকাবাসী। তারা বলছেন, ছগিরকে দেখে সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত। স্থানীয় মাহফুজুর রহমান বাবু বলেন, ‘একজন দরিদ্র মানুষের মনে যেভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা জন্মেছে তা দেখে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।’
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. সালাম সেপাই বলেন, ‘ছগির মিস্ত্রির বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা সবাইকে মুগ্ধ করেছে।’
শরণখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছগির বঙ্গবন্ধুর যে ভাস্কর্য নির্মাণ করেছে তা দেখার মতো।’
বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ডা. মোজাম্মেল হোসেন ছগিরের এই উদ্যেগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর এই ভাস্কর্যটি যেন সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছতে পারে সেই সুপারিশ করবো।’
/টিআর/আপ-এমডিপি/