বর্তমানে মামলাটি পলাতক আসামি ইতি বিশ্বাসের নামে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ১৮ এপ্রিল খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।
মামলাটির পরিচালনাকারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রতিবেদনে ইতি বিশ্বাসের নাম আসামির তালিকাভুক্ত হয়। এরপর তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। কিন্তু পুলিশ তাকে খুঁজে পায়নি। এ অবস্থায় আদালত ইতি বিশ্বাসের নামে গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পরও দুটি তারিখ চলে গেছে। কিন্তু এখনও গেজেট প্রকাশ হয়নি। আগামী ১৮ এপ্রিল ধার্য দিনে এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করা হবে। গেজেট প্রকাশের পরই মামলাটির বিচার শুরু হবে।
তন্বীর মামা আসাদুজ্জামান আক্ষেপ করে আরও বলেন, ‘সোহেল বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ার পর সিআইডির দুর্বলতার কারণে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। তন্বী হত্যার দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত মামলার বিচার শুরু হয়নি।’
প্রসঙ্গত,২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল খুলনা শহরের নূরনগর এলাকায় ‘বিশ্বাস বাড়ি’তে গৃহবধূ সারাহ ফার্গুসান তন্বীকে (২১) সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাসের পুত্র সোহেল বিশ্বাস ও কন্যা ইতি বিশ্বাসসহ আরও দু-তিনজন মিলে নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ ঘটনায় তন্বীর মা শামীমা খাতুন খালিশপুর থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তা আমলে নেয়নি। পরে আদালতের মাধ্যমে খালিশপুর থানায় তন্বী হত্যা মামলা রেকর্ড হয়। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৫ মে পুলিশ সোহেল বিশ্বাসকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, ‘সোহেল বিশ্বাস মারধরসহ নির্মম অত্যাচার করে ভিকটিমকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে, যা আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধ।’ এই ঘটনার পর ওই বছরের ৮ মে মুন্সিগঞ্জ থেকে র্যাব-৬ সোহেলকে গ্রেফতার করে। কিন্তু চার্জশিটে তন্বীর ননদ ইতি বিশ্বাসের নাম না থাকায় ২০১৫ সালের ১১ মে চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন বাদী। ফলে আদালত মামলটি সিআইডিকে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেন। এরপর সিআইডি সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। কিন্তু তারপর থেকে মামলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে সোহেল এখন বহাল তবিয়তে। সিআইডি তদন্ত শেষ করে ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল আদালতে এই মামলার চার্জশিট দাখিল করে। এ চার্জশিটেও কেবল সোহেল বিশ্বাসকেই অভিযুক্ত করা হয়। ফলে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর বাদী শামীমা খাতুন পুনরায় চার্জশিটে নারাজি দেন। এ অবস্থায় শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি তদন্ত করতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি দ্রুত তদন্ত করে আসামি সোহেল বিশ্বাস ও ইতি বিশ্বাসকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর আদালত ইতি বিশ্বাসের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
/বিএল/