বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগ, মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

Chuadanga Boro Dhan Picture 13-04-2017 (4)চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের মাঠে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে।কিন্তু জেলা কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তারা যথাসময়ে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং বেসরকারি কোম্পানি সিনজেন্টার মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ব্যবহারের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকরা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে,গত বছর জেলাতে ধান চাষ হয়েছিলো ২৬ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমি। আর গত বছরের তুলনায় এ বছর বোরো ধানের চাষ বেশি হয়েছে ৭ হাজার ৮৩ হেক্টর জমি। এছাড়া গতবার গমের আবাদ লোকসান হওয়াতে বোরো ধানের চাষ লক্ষমাত্রার চাইতে অনেক বেশি হয়েছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৩৯০ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১২ হাজার ৪২৫ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ৮ হাজার ৫৩৩ হেক্টর ও জীবননগর উপজেলায় ৭ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে আবহাওয়া জনিত কারণে নেক ব্লাস্ট রোগে ৬৮ হেক্টর জমিদে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৪০ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১৪ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ১০ হেক্টর, জীবননগর উপজেলায় ৪ হেক্টর বোরো ধানের জমিতে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

Chuadanga Boro Dhan Picture 13-04-2017 (3)স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ,আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হলে ক্ষতির পরিমাণ কম হতো। কিন্তু কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তারা যথাসময়ে ব্যবস্থা নেয়নি। তবে চাষিদের অভিযোগ সঠিক না বলেও দাবি করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। এ নিয়ে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তারা। উচ্চপর্যায় থেকে মাঠ পর্যায়ের কৃষি অফিসাররা ছত্রাকজনিত নেক ব্লাস্ট সংক্রামণ থেকে বোরো ধান রক্ষার জন্য নাটিভো, ফিলিয়া, ট্রোপার, প্রভিফেন জাতীয় ছত্রাকনাশক বোরো ধানে ব্যবহার করার জন্য পরামর্শ দেয়। কিন্তু আক্রান্ত এলাকায় ওই ধরনের কীটনাশকের সংকট দেখা দেয়।

হিজলগাড়ী বাজার পাড়ার কৃষক আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রায়হান বলেন,‘যখন ধানে কোন রোগ দেখা দেয়নি আমি তখন থেকে সিনজেন্টা কোম্পানির নাটিভো ব্যবহার করছি। এ বছর ৪ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধান এমনকি কৃষিবিভাগের প্রদর্শনী প্লটে ২৯ জাতের ধান লাগিয়ে নিয়মিত নাটিভো কীটনাশক ব্যবহার করেও তা রক্ষা করতে পারেনি।

কুন্দিপুর গ্রামের চাষি ঝন্টু,আলিহীম, ডাক্তার সুদেব, ডিহি গ্রামের হামিদুল্লাহ ও কৃষ্ণপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম একই কথা বলেন। তারা জানান,সিনজেন্টা কোম্পানির সরবরাহ করা ঔষধ ফিলিয়া ব্যবহার করেও শেষ রক্ষা হয়নি। ওই ঔষধ ব্যবহারের পর জানা যায় ৩ মাস আগেই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে ওই ঔষধের।

তারা আরও জানান,‘ব্যবহারের পর জানতে আমরা জানতে পারি মেয়াদোত্তীর্ণ ওই কীটনাশক অন্য জেলা থেকে কোম্পানির লোকজন এনে এখানে সরবরাহ করেছে। যার মেয়াদ গত জানুয়ারি মাসে শেষ হয়ে গেছে।’

এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার তালহা জুবায়ের মাসরুর বলেন,‘আমি বিষয়টি জানার পরপরই চুয়াডাঙ্গায় দায়িত্বরত সিনজেন্টার লোকজনকে ওই কীটনাশক বাজার থেকে সরিয়ে ফেলতে বলেছি।’

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গায়র দায়িত্বর প্রাপ্ত সিনজেন্টা কোম্পানির সেলস প্রমোশন অফিসার মাসুদ রানা ও মার্কেটিং অফিসার হারুন অর রশিদ বলেন,‘চুয়াডাঙ্গাতে ফিলিয়া কীটনাশক অভাব ছিলো বলে অন্যজেলা থেকে আনা হয়েছিলো। কয়েক কাটুন মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ভুল করে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। পরে কয়েকজন চাষি তা ব্যবহার করে ফেলেছে বলে জানতে পেরেছি। তবে জানার পরপরই বাকী কীটনাশকগুলো বাজার থেকে তুলে নিয়েছি।

/এমডিপি/