বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসবের তৃতীয় দিন জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত লাঠি খেলার উদ্বোধন করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক একেএম আনিছুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার শাহ আলম শানু, তাজুল ইসলাম রিপন, মুকুল ও হাফিজুর রহমান।
লাঠি খেলার মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৈশাখী মেলায় আসা প্রবীনরা যেন খুঁজে পেয়েছিল হারোনো স্মৃতি। এছাড়া নতুন প্রজন্মও জানলো ঐতিহ্যবাহী খেলার ইতিকথা।
সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকার খলিলুর রহমান (৫৫) বলেন, ‘আবহমানকাল ধরে লাঠি খেলা এই জেলার মানুষের বিনোদনের খোরাক জুগিয়েছে। কিন্তু কালের বিবর্তনে মানুষ আজ এই ঐতিহ্যবাহী খেলা ভুলতে বসেছে। লাঠি খেলা আমাদের দেশের ঐতিহ্য আর সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির ধারক। একসময় লাঠি খেলা ছিল বিনোদনের মাধ্যম। আমাদের সময়ে ক্রিকেট, ফুটবল ছিল না। গ্রাম বাংলার জনপ্রীয় ক্রীড়া নির্ভর চিত্তবিনোদনের মাধ্যম ছিল লাঠি খেলা।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছোট বেলায় কোথাও লাঠি খেলার আয়োজন হলে তা দেখতে আশপাশের গ্রাম তো বটেই, এমনকি দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসত হাজারও মানুষ। এ খেলাকে কেন্দ্র করেই সেখানে তৈরি হতো এক উৎসমুখর পরিবেশ।
সদরের আগরদাড়ী এলাকার তসির উদ্দীন ৭০ এর কোঠায়। তিনি জানালেন, ‘আমার বাবার কাছ থেকে এই লাঠি খেলা শিখেছিলাম। আগে খেলতাম এখন বয়সের ভারে আর খেলতে পারি না। তারপরও কোথায় লাঠি খেলার কথা শুনলে সেখানে যাই দেখার জন্য।’
খেলায় অংশ নেওয়া ইমন হোসেন বলেন,‘বৈশাখী মেলায় বাবার সঙ্গে লাঠি খেলায় অংশ নিতে এসেছি। লাঠি খেলা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা। এটি আমার ওস্তাদ শামসুদ্দিনের কাছ থেকে শিখেছি। এটি টিকিয়ে ভবিষ্যতে রাখতে চায়।’
সদরের আগরদাড়ী এলাকার শাসসুদ্দিন (৬০) বলেন, ‘লাঠি খেলা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা। এটি টিকিয়ে রাখতে আমি এলাকার অনেক তরুণকে নিয়ে লাঠি খেলার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। আমি এলাকা একটি লাঠি খেলা বাহিনী গড়ে তুলেছি। লাঠি খেলা এখন আর আগের মতো হয় না। বাংলা বর্ষবরণ, বিবাহসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ খেলার আয়োজন করা হয়। তখন আমাদের ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ খেলাটি দিন দিন বিলুপ্তি হওয়ার কারণে খেলোয়ারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। নতুন করে খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না। এটিকে রক্ষা করতে সরকারি -বেসরকারি উদ্যোগ দরকার।’
/এআর/