সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন নদ-নদীতে নির্বিচারে চলছে অবৈধভাবে চিংড়ি পোনা আহরণ। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৫ লাখ নারী পুরুষ নিষিদ্ধ নেট জাল ব্যবহার করে চিংড়ি পোনা ধরছে। যে কারণে প্রায় ১শ’ প্রজাতির জলজ প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রাকৃতিক পোনার উপর ভিত্তি করে আশির দশকে বাংলাদেশে শুরু হয় উপকুলীয় অঞ্চলে লবন পানির চিংড়ি চাষ। গত তিন দশকে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চিংড়ি চাষের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে। বাংলাদেশে বছরে তিন হাজার কোটি পোনার চাহিদা থাকলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৪৭টি চিংড়ি পোনার হ্যাচারিতে উৎপাদন হয় মাত্র এক হাজার কোটি পোনা। এই কারণে চিংড়ি পোনার ব্যাপক চাহিদা রয়ে যাচ্ছে। এ কারণে পুলিশ ও বনবিভাগকে ম্যানেজ করে সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীতে উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ নেটজাল ব্যবহার করে বাগদা ও গলদা পোনা আহরণ করছে। তারা নির্বিচারে পোনা সংগ্রহের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি এই চাহিদা মেটাচ্ছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী স্টেশনের সহকারী বন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান দাবি করেন, উপকূলের ছিন্নমূল মানুষকে তাদের জীবিকার জন্য এ সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এ জন্য তাদের কাছ থেকে কোনও রকম উপটোকেন নেওয়া বা অবৈধ লেনদেন করা হয় না।
এদিকে বন্দর ব্যবহারকারী মশিউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, রেণু বা চিংড়ি পোনা আহরনের জন্য পশুর ও মংলা নদীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য নেট জালের জন্য মংলা বন্দরের আসার সময় দেশি-বিদেশি জাহাজের খুব সমস্যা হয়।
বন্দর চেয়ারম্যান কমডোর ফারুক হাসান অভিযোগটি স্বীকার করে শিগগিরই এর সুরাহ করবেন বলে জানান।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের স্থানীয় আঞ্চলিক সমন্বয়কারী নুর আলম শেখ বলেন, ‘প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দায়িত্বে অবহেলার কারণে বছরের পর বছর ধরে চলছে নেট জাল দিয়ে অবৈধভাবে পোনা শিকার। এর ফলে একটি চিংড়ি পোনা ধরতে গিয়ে ধবংস করা হয় ৬ প্রজাতির মৎস্য ও একশ প্রজাতির জলজ প্রাণী।
তবে কোস্টগার্ড মংলা সদর দফতরের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ আলী চৌধুরী জানান, নিষিদ্ধ জাল বন্ধে তারা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এসব অভিযানে এই চার মাসে ৪০ কোটি টাকার অবৈধ জাল আটক করা হয়েছে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: সাতক্ষীরায় বৈশাখী মেলার শেষ দিনে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত