রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের কাঁকড়া চাষিদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে পারলে প্রতি বছর এ খাত থেকে কয়েকশ’ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁকড়ার চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি দামও বাড়ছে। আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত কাঁকড়ার মৌসুম। এসময় সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার সহস্রাধিক জেলে বনবিভাগ থেকে নির্দিষ্ট রাজস্বের বিনিময়ে পারমিট সংগ্রহ করে সুন্দরবনে কাঁকড়া সংগ্রহ করতে যান।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সাইদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ১১ প্রজাতির কাঁকড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে মাইলা, হাব্বা, সিলা ও সেটরা কাঁকড়ায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকে বলে জানা গেছে।’
মংলার ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, ‘রফতানিতে চীন, মীয়ানমার, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালেয়শিয়া, শ্রীলংকা, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, হংকংসহ বিভিন্ন দেশে সুন্দরবনের কাঁকড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।’
১৯৯৮-৯৯ অর্থ বছরে কাকড়া রফতানি হয় ১২৫ কোটি ২২ লাখ ৩৯ হাজার টাকার। ১৯৯৯-২০০০ অর্থ বছরে রফতানি করা হয় ১৪১ কোটি ৬৬ লাখ ৬ হাজার টাকার। ২০০১-০২ অর্থ বছরে এ খাত থেকে আয় হয় ৫৩০ কোটি টাকা।
২০০২-০৩ অর্থ বছরে কাঁকড়া রফতানি হয়েছে ২ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলারের ৬৩০ মেট্রিক টন, ২০০৩-০৪ অর্থ বছরে আয় গিয়ে দাঁড়ায় ১৪৬ মিলিয়ন ডলারে। এভাবে পর্যায়ক্রমে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে এর আয় পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেড়ে য়ায়।
তারা আরও জানান, এ অঞ্চলে ১২ মাস কাঁকড়ার চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া চিংড়ি চাষের জন্য প্রচুর জমি ও অর্থের প্রয়োজন হলেও কাঁকড়া চাষের জন্য জমি ও অর্থ দু’টিই কম লাগে। ফলে অনেকেই কাঁকড়া চাষে ঝুঁকছেন।
/এআর/