নিখোঁজ ডা. জনির বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে স্থাপিত গ্রিক দেবী থেমিসের ভাস্কর্যজঙ্গি সন্দেহে আটক করে ৩ দিন থানায় রাখার পর নিখোঁজ ডা. মোখলেছুর রহমান জনি সম্পর্কে  ৩ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও  বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। রিটকারী পক্ষের আইনজীবী  মো. মতিয়ার রহমান  এই তথ্য জানান।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘আদালত আগামী ৩ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দিয়েছেন। ওইদিন মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রাখার জন্য বলা হয়েছে।’ রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

নিখোঁজ ডাক্তার মোখলেছুর রহমান জনির স্ত্রী জেসমিন নাহার রেশমা রিটে উল্লেখ করেন, ‘২০১৬ সালের বছরের ৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে অসুস্থ বাবার জন্য বাইসাইকেলে ওষুধ কিনতে গেলে লাবনী সিনেমা হলের মোড় থেকে সদর থানার উপপরিদর্শক হিমেল ডা. মোখলেছুর রহমান জনিকে থানায় ধরে নিয়ে যান। ৫, ৬ ও ৭ আগস্ট স্বজনদের নিয়ে থানা লকআপে তাকে খাবার দিয়েছি। তার সঙ্গে কথা বলেছি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ ও উপ-পরিদর্শক হিমেল বলেন, জনির জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার মুক্তির জন্য তৎকালীন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক হিমেল মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। এরপর ৮ আগস্ট থানায় গেলে জনিকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জনির সম্পর্কে কোনও তথ্য জানাতে পারেনি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাই।  ২৪ আগস্ট জানাই পুলিশ সুপারকে।  ২৬ ডিসেম্বর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ গ্রহণ করেনি। বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করি। এরপরও সন্ধান না  পেয়ে গত ২ মার্চ হাইকোর্টে রিট দাখিল করি। ’

রিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মহাপুলিশ পরিদর্শক, উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (খুলনা), সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপ-পরিদর্শক হিমেল ও সাতক্ষীরা কারাগারের জেলারকে বিবাদী করা হয়। রিট দায়েরের পর গত ৬ মার্চ  শুনানি শেষে আদালত রুল জারির পাশাপাশি নিখোঁজের বিষয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের ব্যাখ্যা চেয়ে ১৯ মার্চ দিন ধার্য করেন।’ 

ওই দিন আদালতে উপস্থাপন করা পুলিশ সুপারের ব্যাখ্যায় বলা হয়, নিখোঁজ মোখলেছুর রহমান নিষিদ্ধ সংগঠন ‘আল্লাহর দল’-এর সঙ্গে যুক্ত এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।  ১৯ মার্চ শুনানি শেষে আদালত ডা. জনিকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে বিচারিক আদালতে হাজির করানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ৯ মে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ঢাকা লিগ্যাল সেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএসএম জাভিদ হাসানকে নির্দেশ দেওয়া হয়।  

আদালতের নির্দেশে ঢাকা লিগ্যাল সেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএসএম জাভিদ হাসান খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শক মো. একরামুল হাবিবকে ( প্রশাসন ও অপারেশন, খুলনা, অনুসন্ধান শাখা) নির্দেশ দেন। একরামুল হাবিব সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করে আদালতে প্রতিবেদনে পাঠান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডা. মোখলেছুর রহমান জনিকে গত বছরের ৪ আগস্ট পুলিশ আটক করেনি। তাকে কেউ থানার মধ্যে দেখেনি।

রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মতিয়ার রহমান শুনানির সময় বলেন, ‘পুলিশ যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে, তা একপেশে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যাদের বিরুদ্ধে ডা. মোখলেছুরকে আটক শেষে ও নিখোঁজ করার অভিযোগ উঠেছে, তারা তাদের পকেটের লোকজনকে দিয়ে পুলিশের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য নিয়েছে। তাই বিষয়টি বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত।’

/এমএনএইচ/