আটক জেএমবি সদস্য সুমাইয়ার বাড়ি নাটোরে: পরিবারের দাবি

7d300a70ef09549e082f0bef24a2c900-5957a07744a7dকুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড আরমান আলীর স্ত্রী সুমাইয়া ওরফে মাহমুদা খাতুনের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের তেলকুপি গ্রামে। সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পরিবারের দাবি, মাহমুদা গত ৫ মাস ধরে নিখোঁজ ছিল।

মাহমুদার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে ইসলামী ব্যাংকের উপ-বৃত্তির টাকা তুলে ২৬ জানুয়ারি ঢাকার উদ্দেশে বের হন মাহমুদা । এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সঙ্গে তার আর যোগাযোগ হয়নি। বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে তার মা আম্বিয়া বেগম ১৯ ফ্রেরুয়ারি নাটোর সদর থানায় জিডি করেন।

আম্বিয়া দাবি করেন, মাহমুদা ২০১৪ সালে নাটোর শহরের রাণী ভবানী মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে ১৪তম স্থান অর্জন করে। এরপর সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়। ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত উপ-বৃত্তি ও টিউশনি করে সে লেখাপড়ার খরচ বহন করতো।
মাহমুদার বোন জাকিয়া জানান, ৫ বোন-৩ ভাইয়ের মধ্যে মাহমুদা ৭ম। তার পিতা মোস্তফা মিজি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন স্থানীয় একটি নার্সারিতে সে দিন মজুরের কাজ করে।

এক প্রশ্নের জবাবে মা আম্বিয়া বেগম জানান, তাদের পরিবারে টেলিভিশন থাকলেও ডিসের সংযোগ না থাকায় মেয়ের খবর জানতে পারেননি তারা। এছাড়া জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড আরমান আলীর সঙ্গে মাহমুদার বিয়ের বিষয়টিও তারা অবগত নন।
মাহমুদা জেএমবি সদস্য হিসেবে আটকের বিষয়টি জানতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, দীর্ঘদিন থেকে মাহমুদার নিখোঁজ থাকার বিষয়টি তারা অবগত নন।

প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা তালতলা মসজিদের পাশে একটি বাড়িতে জঙ্গিরা অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটসহ (সিটিটিসি) ভেড়ামারা থানা পুলিশ, কুষ্টিয়া পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি যৌথ টিম। রাত ৩টার দিকে পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট যৌথভাবে বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে তিনজন নারী জঙ্গিকে আটক করে।
আটককৃতরা হলো বর্তমানে নব্য জেএমবির আমির আইয়ুব বাচ্চুর ওরফে সজিবের স্ত্রী আশরাদি জাহান তিথি ও নিউ জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড আরমান আলীর স্ত্রী সুমাইয়া এবং ভেড়ামারা উপজেলার ঠাকুর দৌলতপুর এলাকার আরমানের স্ত্রী টলি আরা। এসময় তিথি’র সঙ্গে তার ৫ মাস বয়সী মেয়ে এবং টলি আরা’র সঙ্গে তার সাড়ে ছয় বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে।
এর মধ্যে তিথির বাড়ি বগুড়া জেলায়। সুমাইয়ার বাড়ি নাটোর জেলায় বলে ধারণা করছে পুলিশ।
একইদিন বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে ঘটনাস্থলে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা পৌঁছালে শুরু হয় অপারেশন ‘টেপিড পাঞ্চ’। তারপর পৌনে ৬ টার দিকে তারা মূল অভিযান শুরু করে। অভিযানে ১০ কেজি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য, দুইটা সুইসাইডাল ভেস্ট, একটি পিস্তল, ম্যাগজিন ও গান পাউডার উদ্ধার করা হয়। এরপর রাত সাড়ে ৯টায় প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ২২ ঘণ্টার এ অভিযান চূড়ান্তভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করেন খুলনার অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান।

/এআর/