খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গম আত্মসাৎ: যুবলীগ নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

গমখাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য আমদানিকৃত শত কোটি টাকার গম লুটপাটের ঘটনায় যুবলীগ নেতাসহ খুলনা, ঢাকা ও চট্টগামের ৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে গত ২ আগস্ট এ মামলাটি দায়ের করা হয় (এফআইআর নং ৭৮)। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান অ্যাসুয়ারেন্স মেরিটাইম (Assurance Maritaime) বাংলাদেশ লিমিটেডের অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম নাজির মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, দক্ষিণ কোরিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন গম লুটপাটের ঘটনা বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সোহেল রানা বাদী হয়ে ২ আগস্ট চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়ার আদালতে মামলাটি দাখিল করেন।
মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোস্তফা আজগার। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থানাকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলায় ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- খুলনা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জে কে শিপিং লাইন্সের নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত হোসেন, জে কে শিপিং লাইন্সের মালিক নুরুল ইসলাম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, ঢাকার বনানী ২০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ অফিসের আক্তারুজ্জামান খান মামুন, চট্টগ্রামের আব্দুল মালেক মাঝি, ঢাকার পুরানো পল্টনের রোকেয়া অটোমেটেক ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডের সাইফুল ইসলাম ও খুলনার জে কে শিপিং লাইন্সের ম্যানেজার আব্দুস সালাম।

এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট মোস্তফা আজগর মুঠোফোনে মামলা দায়ের করার কথা স্বীকার করে জানান, কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসার পর এ বিষয় সংবাদ সম্মেলন করে সব অবহিত করা হবে।

মামলায় অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সময় উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ২৭ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে। স্থান হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর থানা এলাকার পোর্ট কলোনির টিসিবির ৯টি গোডাউন। আসামিদের নাম-ঠিকানা ও প্রমানাদি সংগ্রহ করতে দেরী হওয়ায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী মামলায় উল্লেখ করেছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুল ইসলাম জানান, আদালতের কোনও আদেশ তিনি পাননি। তবে আদালত থেকে আদেশ এলে আইন অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ, বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার মেসার্স সামজান সিএস কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সরবরাহের চুক্তি হয়। এই চুক্তির ২য় চালানে রুমানিয়া থেকে আসা একটি জাহাজ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন গম নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এই জাহাজেরই শতকোটি টাকার গমই নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দেশের বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

জে কে শিপিং লাইন্স এর প্রধান নির্বাহী কামরুল ইসলাম জানান, কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানের লিখিত নির্দেশে গম বাজারে বিক্রি করে প্রধান এজেন্ট আখতারুজ্জামান খান মামুনের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জানতে আখতারুজ্জামান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার তিনটি মোবাইল ফোনই বন্ধ পাওয়া গেছে।

/এমও/