পাবনায় দুদকের মামলায় সরকারি কর্মচারীর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

দুদক

সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলায় আকতার হোসেন নামে এক সরকারি কর্মচারীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থ জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. লিয়াকত আলী মোল্লা বিচার প্রক্রিয়া শেষে এ রায় দেন।

রায়ে দণ্ডবিধি ৪০৯ ধারায় সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দুই মাসের কারাদণ্ড, দণ্ডবিধি ৪৬৮ ধারায় পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

সাজাপ্রাপ্ত কর্মচারী আকতার হোসেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বরংগাখেলা গ্রামের মৃত সোহরাব উদ্দিনের ছেলে।

দুদক সমন্বিত কার্যালয় পাবনার উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক জানান, আসামি আকতার হোসেন সিরাজগঞ্জ জেলাধীন তাড়াশ উপজেলা পিআইও অফিসের অফিস সহকারী পদে ২০/১০/৯৬ থেকে ২৪/০৭/২০০০ ইং তারিখ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এ সময় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ১৯৯৮-৯৯ অর্থ বছরে বরাদ্দকৃত গৃহ নির্মাণ মঞ্জুরি বাবদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে অননুমোদিত ৭টি চেকের মধ্যে ৩টি চেকে কৌশলে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। বাকি ৪টি চেকে ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা ব্যাংক থেকে উঠান। পরে নগদ ৬৫ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা করে অবশিষ্ট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাত করেন।

এ অভিযোগ অনুসন্ধান শেষে সাবেক পরিদর্শক ও দুদক প্রধান কার্যালয়ের বর্তমানে সহকারী পরিচালক দেওয়ান সফিউদ্দিন বাদী হয়ে ২০০২ সালের ১১ নভেম্বর আকতার হোসেনকে আসামি করে তাড়াশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্ত ভার দেওয়া হয় সহকারী পরিচালক রিজিয়া খাতুনকে। তিনি তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রমাণ পান। পরে ২০১১ সালের ২৯ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত বিচার প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবারে এই রায় দেন। দুদকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী মো. ওবায়দুল হক। মামলার আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: চুয়াডাঙ্গায় বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৪৭