খুলনা রেলওয়ের লোকোশেড থেকে ইঞ্জিনগুলো ভেঙে ভেঙে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাজশাহী থেকে দরপত্রের মাধ্যমে খুলনা রেলওয়ের লোকোশেডে পরিত্যক্ত পাঁচটি ইঞ্জিন বিক্রি করা হয়েছে। তবে দরপত্রের দিনক্ষণ কিংবা এর প্রক্রিয়ার কোনও তথ্য জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। খুলনা, পার্বতীপুর ও রাজশাহী রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলেও সদুত্তর মেলেনি। এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্টদের মনে।
গত ৭ আগস্ট ইঞ্জিন ক্রয়কারীরা সেগুলো খুলনা রেলওয়ের লোকোশেড থেকে ভেঙে ভেঙে নিয়ে গেছেন। খুলনায় গিয়ে তাদেরকে এগুলো বুঝিয়ে দেন রেলওয়ের পার্বতীপুর ডিজেল ওয়ার্কশপের ওয়ার্ক ম্যানেজার এবং ডিস্ট্রিক্ট কন্ট্রোল অব স্টোরের প্রতিনিধিরা। তবে ইঞ্জিনগুলো বিক্রির যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা অবগত নন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন।
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের আওতাভুক্ত পার্বতীপুর ডিজেল ওয়ার্কশপের ওয়ার্ক ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার এবিএম কামরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, খুলনা রেলওয়ের ইঞ্জিন বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
খুলনা রেলওয়ের লোকোশেডে ইঞ্জিনগুলো ভাঙা হচ্ছেরাজশাহী রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. রমজান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ইঞ্জিন বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। খুলনার ইঞ্জিন বিক্রির সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন রাজশাহী রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান।
ইঞ্জিনগুলো বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য জানাতে হলে নথি দেখতে হবে বলে জানান রেলওয়ের ডিস্ট্রিক্ট কন্ট্রোল অব স্টোর সৈয়দপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ হোসেন। তিনি এখন ছুটিতে। কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর এ বিষয়ে জানাতে পারবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
ইঞ্জিনগুলো ট্রাকে তোলা হচ্ছেসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে রেল কর্তৃপক্ষ ২০টি ইঞ্জিন ক্রয় করে। যা ব্রডগেজে চলাচলের উপযোগী। হাঙ্গেরি থেকে আনা এসব ইঞ্জিনের নাম ছিল বিএইচজেড-৫। ইঞ্জিনগুলোর ক্রমিক নম্বর ৭০০১ থেকে ৭০২০ পর্যন্ত। তখন প্রতিটি ইঞ্জিনের দাম পড়েছিল ৫৬ লাখ ১১ হাজার ৩৫০ টাকা। ডিজেল হাইড্রোলিক সিস্টেমে এগুলো চলতো। এর মধ্যে খুলনায় থাকা ৭টি ইঞ্জিন ২০১০ সাল পর্যন্ত সচল ছিল। এরপর ৫টি ইঞ্জিন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তখনকার আরও দুটি ইঞ্জিন বর্তমানে সচল রয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ১০ বছর অতিরিক্ত সেবা পাওয়া গেছে ইঞ্জিনগুলো থেকে।
রেলওয়ের খুলনা লোকোশেড সূত্রে জানা যায়, ইঞ্জিনগুলো দিয়ে নিয়মিত ভারী মেরামত কাজ করা হতো। হালকা মেরামত কাজ ও ট্রিপ ইনস্পেকশন হতো খুলনা রেলওয়ের লোকোশেডে। আরও ভারী মেরামত কাজের জন্য পার্বতীপুর ডিজেল ওয়ার্কশপে পাঠাতে হতো। এছাড়া ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুরে হতো হালকা মেরামত কাজ ও ট্রিপ ইনস্পেকশন।
/বিএল/জেএইচ/