এ ব্যাপারে পশুর রিভার ওয়াটার কিপার নুর আলম শেখ জানান, একটা সময় সুন্দরবনের খালগুলোতে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এসব খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করছে একটি চক্র। ফলে বড় মাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। আর মা-মাছ না থাকায় নতুন করে মাছের প্রজনন হচ্ছে না। অন্যদিকে অবাধে চলছে চিকন সুতার কারেন্ট জালের ব্যবহার। মাছ না থাকার এটাও একটা অন্যতম কারণ।
স্থানীয়দের মতে, সুন্দরবন উপকূলের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে প্রাপ্ত ইলিশের ওপর নির্ভর করে প্রায় এক লাখ জেলে পরিবার। কিন্তু এবার ইলিশ না পাওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে পরিবারগুলোতে। মহাজনের কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়ে এখন বিপদে পড়েছেন অনেকে।
জেলেদের অভিযোগ, সুন্দরবন অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ নদী ও খালে মাছ ধরে জীবন চালান। বিশেষ করে ইলিশ মাছ ধরার মৌসুম আসলেই জেলেরা নেমে পড়েন নৌকা আর জাল নিয়ে। কিন্তু এবার ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না সেখানে। ইলিশ নেই পশুর ও শিবসা নদীতেও। একটি বিশেষ চক্র পানিতে বিষ ঢেলে মাছ শিকার করছে বলে ইলিশশূন্য হয়ে পড়েছে নদীগুলো। এ চক্রকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলেরা।
কানাইনগর এলাকার জেলেরা জানান, সুন্দরবনের ঢাংমারী, মরাপশুর, জোংড়া এবং ঝাপসি এলাকায় স্থানীয় কিছু লোকজন প্রতিনিয়ত বিষ দিয়ে মাছ ধরছেন। আর এই বিষাক্ত পানি সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল থেকে ভাটার সময় নদীতে নেমে আসে। যার ফলে ছোট-বড় সব ধরণের মাছ মরে যাওয়ায় এখন নদীতে আর মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে পরিবেশবিদ ড. মো. মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদী ও খালের নাব্যতা হ্রাস, বিষ দিয়ে মাছ শিকার এবং কারেন্ট জালের ব্যবহারের কারণে সুন্দরবনের নদী ও খালে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ এবং মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নদী ও খালে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।’
তবে আগের তুলনায় বিষ দিয়ে মাছ শিকার কমে গেছে দাবি করেছেন পূর্ব সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মেহিদীজ্জামান। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সুন্দরবনের হাড়বাড়িয়া, মরাপশুর ও নন্দবালা এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন জেলেকে বিষসহ আটক করে বনপ্রহরীরা। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বনবিভাগের নিয়মিত টহলের কারণে বিষ দিয়ে মাছ শিকার কমেছে।’
/এএইচ/এফএস/
আরও পড়ুন- ‘বন্যায় ভেসে গেছে সব, আর কিছু যাওয়ার বাকি নেই হাওরবাসীর’