এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, ৩১, ৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডারে বাঁধ সংস্কার না হওয়ায় উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জোয়ারের সময় পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ৩২নং পোল্ডারের সুতারখালী ইউনিয়নের নলিয়ান বাজারের মূল বাজার থেকে ফরেস্ট অফিস পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার, কালাবগী, ঝলন্ত পাড়া, বৃহস্পতি বাজারের সামনে প্রায় এক কিলোমিটার, গুনারী চিত্ত বিশ্বাসের বাড়ির সামনে ৩শ গজ, গুনারী কালিবাড়ি লঞ্চঘাট থেকে নিমাই স্বরের বাড়ির সামনে পর্যন্ত এক কিলোমিটার, সুতরখালী মুজিবর মল্লিকের বাড়ির সামনে ২শ গজ, কামারখোলা ইউনিয়নের জলিয়াখালী, ভিটেভাঙা, উত্তর কামারখেলা, পশ্চিম শ্রীনগর, জয়নগর, কালিনগর এলাকায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। ৩৩ নং পোল্ডারের বানিশান্তা বাজার এলাকায় ৫শ’ গজ, কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের রামনগর বাজার এলাকায় ২শ’ গজ বাঁধের এক তৃতীয়াংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। অবশিষ্ট অংশও ঝুঁকির মুখে আছে। ৩১নং পোল্ডারের কামিনি বাসিয়া পুলিশ ক্যাম্প থেকে ঝালবুনিয়া পর্যন্ত দুই কিলোমিটার, বটবুনিয়া দুলাল সরদারে বাড়ির সামনে ৪শ গজ, পানখালী ঋষি পাড়া, পানখানী ফেরিঘাট, পানখালী ২নং ওয়ার্ড ওয়াপদার রাস্তা, খলিসা, মৌখালী, লক্ষ্মীখোলা, কামিনী বাসিয়া, খোনা, মোজামনগর, গড়খালী সংলগ্ন বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বেড়িবাঁধে ফাটল ও ভাঙনের বিষয়ে পাউবো কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা কোনও পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি।
নিবেদিতা মণ্ডল বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক এ বাঁধের দায়িত্ব নেওয়ায় পাউবো এখন ওই বেড়ি বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় কোনও ধরনের কাজ করতে আগ্রহী নয়।’
চালনা এম এম ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অসিম কুমার থান্দার বলেন, ‘বিশ্ব ব্যাংক দু’টি পোল্ডারে নদী শাসন ব্যবস্থা না রেখে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ ধীরগতিতে করছে। এর ফলে নদী ভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে।’
সমর চন্দ্র বৈরাগী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কাজ না করে ভালো স্থানে কাজ শুরু করেছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের বাঁধ আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।’
৩২নং পোল্ডারের আওতাভুক্ত কামারখোলা ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন মণ্ডল ও সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বলেন, নদীতে প্রবল জোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পানির তোড়ে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দেড় মাসের ব্যবধানে এ পোল্ডার এলাকার বেড়িবাঁধের প্রায় দুই কিলোমিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভয়াবহ এ নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
৩১নং পোল্ডারের আওতাভুক্ত তিলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত কুমার মণ্ডল জানান, ইতোমধ্যেই এ পোল্ডারের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার বাঁধ নদী গর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে কামিনিবাসিয়া থেকে ঝালবুনিয়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার বাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনও সময় এ বাঁধ নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, ‘উপজেলার ৩২ এবং ৩৩নং পোল্ডারের বেড়িবাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের দায়-দায়িত্ব বিশ্ব ব্যাংক হাতে নিয়েছে। ফলে এখন ওই দু’টি পোল্ডারের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কারে পাউবো আগ্রহী নয়। তবে ৩১নং পোল্ডারের ঝুঁকিপূর্ণ কিছু কিছু স্থানে পাউবো কাজ করছে।’
দাকোপ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আবুল হোসেন জানান, নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার তিনটি পোল্ডারে ৩৫ থেকে ৪০টি স্থানে ভয়াবহ নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার ও বিকল্প নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। নদী ভাঙন কবলিত স্থানগুলোতে প্রাথমিক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় ইউপি পরিষদ চেয়ারম্যানদের নিজ অর্থায়নে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মারুফুল আলম জানান, ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
/বিএল/