লোহাগড়া আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল আজাদের আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসানকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এ মামলায় আসামি করা হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল ইসলাম এবং নড়াইল সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার মঞ্জুরুল মোর্শেদ মুনকে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- এসআই নয়ন পাটোয়ারী, এসআই শিমুল কুমার দাশ, এসআই নাছির উদ্দিন আকন্দ, এসআই মিহির কান্তি পাল ও এসআই শাহিনুর রহমান এবং এএসআই মাসুদুর রহমান, এএসআই তানভীর হোসেন, এএসআই আব্দুল হাকিমসহ চার পুলিশ সদস্য।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট রাত ৯টার দিকে লোহাগড়া পৌরসভা নির্বাচনের আগে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আশরাফুল আলমের পক্ষে মতিয়ার রহমান কচুবাড়িয়া এলাকায় প্রচার চালানোর সময় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শেখ শরিফুল ইসলামের ক্যাডার জাহাঙ্গীরকে স্থানীয় জনগন দুটি পিস্তল এবং ৭ রাউন্ড গুলিসহ উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে লোহাগড়া পৌরসভার পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন কাশিপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানকে লোহাগড়া থানা পুলিশ ডেকে নিয়ে থানার মধ্যে ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা তাকে (মতিয়ার) বেদম মারধর করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন থাকলেও কর্মরত চিকিৎসক ডা. মঞ্জুরুল মোর্শেদ মুন রিপোর্টে কোনও আঘাতের চিহ্ন উল্লেখ করেননি।
মতিয়ার রহমান বলেন, কোনও কারন ছাড়াই সেদিন পুলিশ আমাকে বেদম মারধর করে এবং এ কাজে সহায়তা করে শেখ শরিফুল ইসলাম। লোহাগড়া থানা মামলা গ্রহণ না করায় এ মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হলো। এছাড়া তৎকালীন ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা লোহাগড়া থানায় কর্মরত থাকায় ভয়ে মামলা করার সাহস পাননি বলে মামলায় উল্লেখ করেন তিনি।