জেলা পূজা উদযাপন কমিটির তথ্য মতে, এবারে কুষ্টিয়া জেলায় ২২৭টি পূজা মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৭৬টি, কুমারখালী উপজেলায় ৫১টি, খোকসা উপজেলায় ৫৮টি, মিরপুর উপজেলায় ২৩টি, ভেড়ামারা উপজেলায় ৮টি এবং দৌলতপুর উপজেলায় ১১টি মণ্ডপে পূজা হবে।
প্রতিমাশিল্পী শ্রী রাম প্রসাদ বলেন, প্রতিমা তৈরিতে এঁটেল ও বেলে মাটি ছাড়াও বাঁশ-খড়, দড়ি, লোহা, ধানের কুঁড়া, পাট, কাঠ, রঙ, বিভিন্ন রঙের সিট ও শাড়ি-কাপড়ের প্রয়োজন হয়।
প্রতিমাশিল্পী উজ্জল রায় বলেন, সারা বছর এই সময়ের জন্য অপেক্ষায় থাকি। কারণ বছরের অন্য সময় তেমন কাজ না থাকলেও এই সময় ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তবে সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়লেও সে অনুপাতে প্রতিমা তৈরির মজুরি বাড়েনি।
শহরের প্রতিমাশিল্পী সুকান্ত পাল জানান, পূজা শুরুর আগেই প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে মৃৎশিল্পীরা বিরামহীনভাবে কাজ করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কাজ। অর্ডারমত প্রতিমাকে গড়ে তুলতে চেষ্টার কোনও কমতি নেই।
শহরের থানা পাড়া সার্বজনীন পূজা মণ্ডপের সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন বিষনো শিল শুভ বলেন, গত বারের চেয়ে এ বছর প্রতিমা তৈরির খরচ বেশি। কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের
সভাপতি নরেন্দ্র নাথ সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে শারদীয় দুর্গা পূজা। প্রতি বছরের মতো এবারও এ উৎসবটি জাকজমকভাবে উদযাপন করা হবে। এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে নৌকায় করে এবং গমন করবেন ঘোটকে (ঘোড়া) করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর কুষ্টিয়ায় মোট ২২৭টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে শহরের নব যুব সংঘ মন্দিরে অনুষ্ঠানিকভাবে দুর্গা পূজার উদ্ধোধন করা হবে। নির্বিঘ্নে পূজা পালন করতে প্রশাসন থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছি।’