কৌশলে বন্ধ করা হলো সাতক্ষীরার পাঁচটি পত্রিকার প্রকাশনা

কৌশলে বন্ধ করা হলো সাতক্ষীরার পাঁচটি পত্রিকার প্রকাশনাডিক্লারেশনে উল্লেখ করা ছাপাখানায় পত্রিকা না ছাপানোয় প্রশাসনের নির্দেশে কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেছে সাতক্ষীরার তিনটি দৈনিকের। একই ধরনের জটিলতার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে আরও দুটি সাময়িকী। জেলা প্রশাসন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্থানীয় পাঁচটি ছাপাখানাকে ‘অনুমোদনহীন পত্রিকা’ না ছাপানোর নির্দেশ দেওয়ায় বুধবার এসব দৈনিক প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অনিশ্চিত হয়ে গেছে এসব পত্রিকার ভবিষ্যত।

এ পত্রিকা তিনটি হচ্ছে―দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা, দৈনিক দক্ষিণের মশাল ও দৈনিক সাতনদী। যে দুটি সাময়িকী একই ধরনের জটিলতায় পড়তে পারে সেগুলো হচ্ছে সাপ্তাহিক দখিনা দূত ও সাপ্তাহিক মুক্ত স্বাধীন। এই পাঁচটি পত্রিকার কোনোটিই তাদের প্রিন্টার্স লাইনে উল্লিখিত ছাপাখানায় পত্রিকা ছাপায় না।

বুধবার সাতক্ষীরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোশারেফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলার পাঁচটি ছাপাখানাকে অনুমোদনহীন পত্রিকা না ছাপানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে বিপাকে পড়ে যায় এসব পত্রিকা। স্থানীয় ছাপাখানাগুলো জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পত্রিকাগুলো ছাপাতে অপারগতা প্রকাশ করায় দৈনিকগুলোর কোনও সংস্করণ বুধবার প্রকাশিত হয়নি। এমনকি কবে এগুলো প্রকাশ হবে নাকি বন্ধ হয়ে যাবে তাও বুঝতে পারছেন না এর মালিকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রদূত, দৈনিক কালেরচিত্র, যুগেরবার্তা, দৃষ্টিপাত ও কাফেলার ছাপাখানার অনুমোদন রয়েছে। এই ছাপাখানাগুলোয়  আরও ছাপা হয় সাতক্ষীরা ও খুলনা বিভাগ থেকে ডিক্লারেশন নেওয়া তিনটি দৈনিকসহ পাঁচটি পত্রিকা।

আজকের সাতক্ষীরা পত্রিকার প্রিন্টার্স লাইনে গ্লোব প্রিন্টিং প্রেসের নাম রয়েছে। তবে বর্তমানে সাতক্ষীরায় এই প্রেসের অস্তিত্ব নেই। দৈনিক সাতনদী পত্রিকায় উল্লেখ করা রাজ প্রিন্টিং প্রেসের অস্তিত্ব থাকলেও তাদের মেশিন ছোট থাকায় এই প্রেসে পত্রিকা ছাপানো যায় না। ফলে পত্রিকাটি অন্য প্রেসে ছাপানো হতো। একইভাবে বন্ধ রয়েছে দৈনিক দক্ষিণের মশাল পত্রিকার জন্য অনুমোদন নেওয়া আহমাদিয়া প্রেস। সাপ্তাহিক  মুক্ত স্বাধীন পত্রিকার অনুমোদনের সময় প্রিন্টার্স লাইনে নেওয়া শাপলা প্রিন্টিং প্রেসেরও অস্তিত্ব নেই। খুলনা থেকে ডিক্লারেশন নেওয়া দখিনাদূত সাতক্ষীরা থেকে ছাপা হতো।

একই কারণে কয়েক বছর আগে সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত জামায়াতের কথিত মুখপত্র দৈনিক আলোর পরশ পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর আগে একই কারণে দৈনিক পত্রদূতের সম্পাদক ও কাফেলার সম্পাদককে জরিমানা করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে দৈনিক দক্ষিণের মশালের সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসন থেকে আমাদের পত্রিকা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। প্রেস মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পত্রিকা ডিক্লারেশন যে প্রেসে থেকে নেওয়া হয়েছে সেই প্রেস থেকে পত্রিকা ছাপতে হবে। আমার পত্রিকার ডিক্লারেশন আহমাদিয়া প্রিন্টিং থেকে নেওয়া ছিল। বর্তমানে আহমাদিয়া প্রিন্টিং প্রেস বন্ধ রয়েছে। এ সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে আমার প্রশানের কাছে আবেদন করবো।’

পত্রদূত প্রিন্টার্সের সত্ত্বাধিকারী অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রশাসন কোনও পত্রিকাকে বন্ধ করার চিঠি দেয়নি। পাঁচটি পত্রিকার নিজস্ব প্রিন্টিং প্রেস রয়েছে। এই পাঁচটি প্রেসে ছাপা হয় বিভিন্ন পত্রিকায়। এই ছাপাখানাগুলোকে অনুমোদনহীন পত্রিকা না ছাপতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডিক্লারেশন নেওয়ার সময় কোনও ছাপাখানা থেকে ছাপতে হবে সেই বিষয়ে উল্লেখ থাকতে হয়। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে খুলনা ও যশোর থেকে অনুমোদন নেওয়া পত্রিকাগুলোও সাতক্ষীরার বিভিন্ন ছাপাখানা থেকে ছাপাচ্ছেন। এছাড়া সাতক্ষীরার অনেক পত্রিকার ডিক্লারেশন নেওয়া যেসব ছাপাখানা থেকে, সেই সব ছাপাখানার কোনও অস্তিত্ব নেই। তাদের তো ধরার কোনও সুযোগ নেই। সেজন্য অনুমোদিত ছাপাখানাগুলোকে অনুমোদনহীন পত্রিকাগুলোকে না ছাপতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন- প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগ যাচাই ছাড়াই শিক্ষার্থীকে হলছাড়া করলো কর্তৃপক্ষ!