সাতক্ষীরায় স্ত্রীকে কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

সাতক্ষীরা জেলাসাতক্ষীরার তালা উপজেলায় স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। রবিবার (১ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে খুলনায় নেওয়ার পথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন গৃহবধূ মুন্নি খাতুন। ঘটনার পর থেকে পলাতক মুছা গাজী।

মুন্নি ও মুছা দম্পতি তালা উপজেলার খলিশখালি ইউনিয়নে বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা।

মৃত্যুর আগে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুন্নি খাতুন সাংবাদিকদের জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার একটি বাচ্চা হয়। এ সময় তার সন্তানের নাড়ি ছিঁড়ে যায়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। স্বামী তাকে মারধর করতো এবং বাপের বাড়ি চলে যেতে বলতো। না গেলে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দিত। শনিবার রাতে তাদের মধ্যে কথাকাটি হয় এবং স্বামী তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়লে ভোর ৪টার দিকে মুছা ঘুমন্ত অবস্থায় তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আত্মচিৎকার শুনে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

প্রতিবেশী মরিয়াম বলেন, প্রায় ওদের মধ্যে ঝগড়া হতো। রাতে আত্মচিৎকার শুনে অগ্নিদগ্ধ মুন্নিকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফরহাদ জামিল বলেন, মুন্নির শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন জানান, সাতক্ষীরা থেকে খুলনায় নেওয়ার পথে ডুমুরিয়ায় পৌঁছালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তার স্বামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।