বিজয়া দশমীতে ইছামতি নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছে দুই বাংলার মানুষ। সীমান্ত নদী ইছামতির চরে বাংলাদেশ-ভারত সীমানায় বসেছে প্রতিমা বিসর্জন মেলা। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ইছামতি নদীর দুই তীরে ১০ কিলোমিটার জুড়ে এই মেলা বসেছে। শনিবার দুই বাংলার মিলন মেলা অনুষ্ঠিত না হলেও,নিজ নিজ সীমা রেখায় বিজয়া দশমির প্রতিমা বিসর্জন দিতে দেখা গেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা বিসর্জনের স্থান দেবহাটার ইছামতি নদী।
বিগত বছরগুলোতে বিসর্জনকে ঘিরে দুই বাংলার মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হতো।এই দিনে আন্তর্জাতিক সীমারেখাসহ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে দু-দেশের মানুষ ইছামতি নদীর তীরে মিলিত হতো।তবে এবার ছিল এর ব্যতিক্রম। আইন-শৃঙ্খলা কঠোর হওয়ায় দুই দেশের মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি। তাছাড়া নদীর জিরো পয়েন্টে ডিঙ্গি নৌকায় লাল ফ্লাগ উড়িয়ে দুই দেশের সীমানা নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। সন্ত্রাসী, পলাতক আসামি ও দুষ্কৃতিকারীরা যাতে অবৈধভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে না পারে সে কারণে এ কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। দুই দেশের জাতীয় ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অবস্থানও ছিল কঠোর। তাই ঐতিহ্যবাহী এই মিলন মেলায় কেউ কোনও দেশের স্থল সীমায় ঢুকতে পারেনি।
অন্যদিকে বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর দেবহাটার টাউন শ্রীপুর ও ভারতের টাকীর পারে জড়ো হতে থাকে লাখো মানুষ। দুপুর থেকে দেবহাটাসহ অন্যান্য সীমান্ত এলাকার বিপুল সংখ্যক দূর্গা প্রতিমাকে বিসর্জনের জন্য নিয়ে আসা হয় ইছামতি নদীর তীরে। একই সঙ্গে দেবহাটার বিপরীতে ভারতের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার হাসনাবাদ, টাকী ও হিঙ্গলগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিমা নিয়ে আসতে থাকে ভক্তরা। পরে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে অশ্রুসিক্ত চোখে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দূর্গাকে বিদায় জানায় দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ।
নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ-ভারতের আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারণী ইছামতি নদীর জিরো পয়েন্ট এলাকা জুড়ে নৌযানে টহল জোরদার করেছে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ)সদস্যরা। এছাড়াও ছিল পর্যাপ্ত সংখ্যক সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা পুলিশ। বাংলাদেশে ঢুকার পথসহ সব সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছিল ট্রাফিক পুলিশ।
সাতক্ষীরা দেবহাটা সদর ইউনিয়নের আয়োজনে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন, পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, এএসপি (কালিগঞ্জ সার্কেল) মির্জা সালাউদ্দীন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল আসাদ, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী কামাল হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম খোকন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবর রহমান, দেবহাটা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী প্রমুখ।
আরও পড়তে পারেন: সাতক্ষীরায় স্ত্রীকে কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ