পাইকারে ৮০, খুচরায় মরিচের কেজি ২০০ টাকা

কাঁচামরিচমাগুরায় মরিচের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। জেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও চড়া দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কৃষকরা বলছেন, পাইকারে ৮০ টাকা কেজিতে মরিচ বিক্রি করছেন তারা। অথচ খুচরা বাজারে গিয়ে দাম হয়ে যাচ্ছে ২০০ টাকা। বাজারে প্রশাসনের নজরদারি নেই বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। অথচ মাত্র পাঁচদিন আগেও কাঁচামরিচ ১০০-১২০ টাকায় পাওয়া গেছে। হঠাৎ করে মরিচের দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বল্প আয়ের লোকজন।

সদর উপজেলার নালিরডাঙ্গি গ্রামের কৃষক কুদ্দুস আলী বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে আমরা পাইকারের কাছে ৮০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করেছি। তখন বাজারে মরিচের কেজি ছিল ১০০ টাকা। এখনও পাইকারি বাজারে সেই ৮০ টাকা দরেই বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু খুচরা বাজারে তা কেন ২০০ টাকা বুঝতে পারছি না। আসলে মধ্যস্বত্বভোগীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মুনাফা লুটছে।’

শহরের ঢাকা রোড এলাকার মরিচের আড়তদার তিলাম হোসেন বলেন, ‘আমরা এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে মরিচ কিনছি না বললেই চলে। কেননা স্থানীয় কৃষকদের সরবরাহকৃত মরিচ একেবারেই অপর্যাপ্ত। বাধ্য হয়েই আমরা আমদানিকৃত মরিচ বিক্রি করছি। মরিচের আমদানিমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ছে।’

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, মাগুরা জেলায় চলতি বছরে এক হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে তিন হাজার ২২০ টন মরিচ উৎপাদিত হয়েছে। যা জেলার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

স্কুল শিক্ষিকা ফাতেহা নূরানী বলেন, ‘বাজারে মরিচ সরবরাহের কোনও ঘাটতি নেই, অথচ মরিচের বাজারে আগুন। বাধ্য হয়েই মরিচের ব্যবহার অর্ধেক কমিয়েছি। তারপরও কুলিয়ে উঠতে পারছি না।’

আইনজীবী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগীরা বৃষ্টি-বন্যার কথা বলে মরিচের দাম বাড়াচ্ছে। অথচ জেলায় বন্যা-বৃষ্টির কারণে মরিচের সামান্যতম ক্ষতির খবর আমরা পাইনি। শুনেছি দুয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে আবার মরিচের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা হবে। এভাবে চলতে থাকলে রান্নায় মরিচের ব্যবহার বাদ দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।’

মাগুরা পুরাতন বাজারের তরকারি বিক্রেতা কলম আলী বলেন, ‘আমাদের করার কিছু নেই। পাইকারি বাজার থেকে ১৮০-১৯০ টাকা কেজি দরে মরিচ কিনছি এবং ২০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। অথচ ক্রেতারা আমাদেরকেই দুষছে।’

জেলা মার্কেটিং অফিসার জাকির হোসেন জানান, মরিচের মূল্য শুধু মাগুরায় নয়, সারা দেশেই ঊর্ধ্বমুখী।

মনিটরিংয়ের দুর্বলতার কথা অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন ‘জোরালো মনিটরিং চলছে। খুব দ্রুতই মরিচের বাজার স্থিতিশীল হবে।’