কুষ্টিয়ায় লালনের আখড়া (ছবি: প্রতিনিধি)কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়ির সাধুর হাট শেষ হয়েছে। বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১২৭ তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আখড়াবাড়িতে বসেছিল সাধুর হাট।সোমবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনদিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন হয়েছিল। উৎসবে যোগ দিতে আসা সাধুভক্তরা বুধবার আখড়া ছেড়ে গেছেন।
সাধক আর বাউলদের মিলনমেলা ছাড়াও তিনদিনব্যাপী লালন মঞ্চে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে রাত পর্যন্ত ।এদিকে আখড়ায় গ্রামীণ মেলা চলবে আরও দুইদিন।
কুষ্টিয়ায় লালনের আখড়া ছেড়ে যাচ্ছেন ভক্তরা (ছবি: প্রতিনিধি)আখড়াবাড়ি ঘুরে দেখা যায়, বাউলদের আসর এখন অনেকটাই ফাঁকা। বুধবার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকেই সাধন সঙ্গিনী,শিষ্যদের নিয়ে দলে দলে সাঁইজির ধাম ছেড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধুরা। তবে তাদের বিদায়ের আগে সাঁইজির ধামের পরিবেশ হয়ে উঠেছিল মায়াময়।বিদায় নেওয়ার সময় সাধুরা ধরে রাখতে পারেননি চোখের পানি। নিজে কেঁদেছেন, কাঁদিয়েছেন শিষ্যকে। গুরু-শিষ্যের চোখের জলে মন ভেসেছে লালন অনুসারী আর দর্শনার্থীদের।
ফকির লালন শাহ সব ধর্মের সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে সদা সত্য পথে চলতে মানুষকে মানবতাবাদের পথে ডাক দিয়েছিলেন। তিনি অহিংস মানবতার ব্রত নিয়ে মানুষের কল্যাণে অসংখ্য গান সৃষ্টি করে গেছেন। তার এই অমর সঙ্গীত কোনও ধর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
কুষ্টিয়ায় লালনের আখড়া (ছবি: প্রতিনিধি)উল্লেখ্য,বাংলা ১২৯৭ সালের ১ কার্তিক প্রয়াণ হয় বাউল সম্রাট লালন শাহের। এরপর থেকেই কালীগঙ্গা নদীর তীরে পালিত হয়ে আসছে লালন স্মরণোৎসব। অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রতিবছর লালনের আখড়া বাড়ি কুমারখালীর ছেউড়িয়ায় সমাগম হয় হাজার হাজার মানুষের। এ উৎসবকে ঘিরে দেশ-বিদেশ থেকে দলে দলে মানুষ ছুটে আসেন লালনের আখড়ায়।