স্বামী হত্যার বিচার চান সোমা

সংবাদ সম্মেলনে সোমা বেগমস্বামী মানসুর শেখকে (৩৫) প্রকাশ্যে গলা কেটে  হত্যার বিচার চান নিহতের স্ত্রী সোমা বেগম। সোমবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিচার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সোমা বেগম বলেন, ‘বাগেরহাটের আলোচিত গোলাম রসুল হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন আমার স্বামী মানসুর শেখ। সন্ত্রাসীরা বহুবার আমার স্বামীকে সাক্ষী দিলে মেরে ফেলা হবে,এই হুমকি দেয়। কিন্তু এরপরও আমার স্বামী সাক্ষী দেয়। আর এই স্বাক্ষী দেওয়াই কাল হয় তার জন্য।’             

তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ফরিদ বাহিনীর সদস্যরা গত ৩১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) প্রকাশ্যে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বৌলপুর বাজারে কামাল শেখের চায়ের দোকানের সামনে আমার স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে আমার চিৎকারে আমার ভাই, আমার ভাসুর, আমার দেবর দৌড়ে এসে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করলেও আমরা তার জীবন বাঁচাতে পারিনি। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর মামলা না করার জন্য সন্ত্রাসীরা আমাদের বারবার হুমকি দিয়েছিল। তবুও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে আমি গত শুক্রবার (৩ নভেম্বর) মোড়েলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করি।

আসামিরা হলেন- ফরিদ হাওলাদার (৪০), দেলোয়ার সরদার (৫২), সিদ্দিক মোল্লা (৬০), মো. জিয়া সরদার (২৫), ফোরকান খা (২৪), শওকত মোল্লা (৪২), হায়তার মোল্লা (২৮), তবিবুর রহমান হাং (৫২), সাইদুর রহমান হাং (৪৮), মুরাদ হোসেন হাং (২৫), জনি হাওলাদার  (৩৪), শিমুল বেগম (৪০), মো. ফজলুর রহমান (৪৮), মো. শিমুল ফকির (৪৫), খসরু খান (৩২), মো. লোকমান খা (৪০), কালাম শেখ (৪০), বাবুল জোমাদ্দার (৪৫), জব্বার শেখ (৫০)। আসামিদের সবার বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার হোগলাপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মামলা দায়েরের পর আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ এখনও কোনও আসামিকে আটক করতে পারেনি । উল্টো আসামিরা আমাদের বিভিন্ন রকম হুমকি দিয়েই যাচ্ছে। এ কারণে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এ কথা সত্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত মানছুরের একমাত্র মেয়ে লামিয়া খাতুন (৭),মা আলেয়া বেগম, ভাই ফারুক শেখ ও মিন্টু শেখ এবং বোন আফরোজা উপস্থিত ছিলেন।