নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা শত্রুমুক্ত দিবস পালিত

মুক্ত দিবসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাবর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চত্বর থেকে বিশাল শোভাযাত্রা বের হয়। বাংলাদেশের পতাকাবাহী শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক পার হয়ে সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশাররফ হোসেন মশুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অংশ নেন সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দিন, নবাগত পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান, দেবহাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল গণি, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের লায়লা পারভীন সেঁজুতি, আবু রায়হান তিতু প্রমুখ।

আলোচনা সভায় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, ৯ মাসের বীরোচিত লড়াইয়ে ১৬টি যুদ্ধ জয়ের পর এ দিন সাতক্ষীরার মাটিতে মুক্তিযোদ্ধারা ফিরে আসতেই পিছু হটে পাকিস্তানি বাহিনী।  ৭ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা তিন ভাগে ভাগ হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর আক্রমণ করে। ত্রিমুখী হামলার মুখে পাকিস্তানি বাহিনী দ্রুত সাতক্ষীরা ছেড়ে চলে যায়। এ সময় তারা বেত্রাবতী ও বেনেরপোতা ব্রিজ ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়। মুক্তিযোদ্ধারা সাতক্ষীরা মহকুমা অফিস ও থানায় বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করে ‘সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস’ ঘোষণা করেন। যুদ্ধে জেলার ৩৩ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানএদিকে, দিবসটি উপলক্ষে দুপুরে সাতক্ষীরা পৌরসভার বদ্দীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফেসবুক ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা বন্ধু’ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রফিকুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুর আহমেদ সজল।