‘ঝিনাইদহে নিহত রবিউল জামায়াতকর্মী নন’





ঝিনাইদহঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে কুপিয়ে হত্যা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জামায়াতকর্মী নন বলে জানিয়েছেন কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মোয়াবিয়া হোসেন। নিহত রবিউলের বড় ভাইয়ের ছেলে মমিনুর রহমান মিন্টুও একই কথা বলেছেন। তিনি জানান, রবিউল রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের মাঝের পাড়া মসজিদে ইমামতি করতেন।

মমিনুর রহমান মিন্টু জানান, কোটচাঁদপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদের বাড়ির নিচ তলায় রবিউল ইসলামের একটি ‍ভুসিমালের (ধান, চাল, ডাল) আড়ৎ আছে। তিনি সেখান থেকে প্রতি শুক্র ও সোমবার কালীগঞ্জের হাটে ভুসিমাল নিয়ে যেতেন। শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোরে তিনি মসজিদে ইমামতি না করে বাড়ি থেকে কোটচাঁদপুর আড়তে যাচ্ছিলেন। পথে কাশিপুর ও নওদাগা গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে পৌর কলেজ থেকে একটু দূরে ডাকাতের কবলে পড়েন। ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার উরুতে কোপ মারে। আহত অবস্থায় তাকে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এলাকাবাসীর ধারণা, ডাকাতদের মধ্যে হয়তো এলাকার কোনও লোক ছিল। সেই লোককে চিনে ফেলার কারণে রবিউলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
কোটচাঁদপুর থানার এসআই জমির উদ্দিন জানান, সুরতহালে রবিউলের বাম পায়ের উরুতে কোপের চিহ্ন দেখা গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মোয়াবিয়া হোসেন বলেন, ‘নিহত রবিউল ইসলাম আমাদের দলের কেউ নন। তিনি একজন সাধারণ মানুষ এবং হাফেজ ছিলেন।’

কোটচাঁদপুর থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, ‘রবিউল ইসলাম রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রাম থেকে বাইসাইকেল যোগে কোটচাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। আমার ধারণা, পথে কাশিপুর নামক স্থানে পৌঁছালে ডাকাতরা তাকে চিনে ফেললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে। পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে তিনি মারা যান। তবে ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারের জন্য আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং অচিরেই তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার মিজানূর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ।
নিহত রবিউল ইসলামের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ে তাসমিয়া আক্তার লিপা একটি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ও ছেলে নাছির এবার ৫ম শ্রেণিতে উঠবে।

আরও পড়তে পারেন:  কোটচাঁদপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা