বুধবার সকাল ১০টায় শ্রমিকরা স্ব স্ব মিল গেটে সমবেত হন। পরে রাজপথে থালা-বাসন হাতে ভুখা মিছিল কর্মসূচি পালন করেন। প্লাটিনাম, ক্রিসেন্ট, খালিশপুর, স্টার জুট মিলের শ্রমিকরা খালিশপুর বিআইডিসি রোডে ভুখা মিছিল বের করে। মিছিলটি দৌলতপুর নতুন রাস্তা মোড়ে পৌঁছালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি ট্রেনের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় শ্রমিকরা ট্রেনটি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ট্রেনটির জানালার কাচ ভেঙে চালকসহ ৩০ যাত্রী আহত হন। খুলনা-যশোর মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে ভুখা মিছিলটি পুনরায় বিআইডিসি রোডে আসলে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা রাস্তার দুই দিকের দোকানে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
ভুখা মিছিলের আগে সকাল ১০টায় খুলনা-যশোর অঞ্চলের শ্রমিক নেতারা সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা কাওসার আলী মৃধা, খলিলুর রহমান, মনিরুল ইসলাম শিকদার ও মোল্লা নাসির প্রমুখ।
দৌলতপুর রেল স্টেশন মাস্টার বুলবুল আহমেদ জানান, শ্রমিকদের হামলায় মহানন্দা এক্সপ্রেসের চালকসহ ২৭ যাত্রী আহত হন। দৌলতপুর স্টেশনে যাত্রা বিরতি করে আহত যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পাওনার দাবিতে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলীম ও জেজেআই এবং ৩০ ডিসেম্বর থেকে খালিশপুর জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ হয়। গত ১৮ জানুয়ারি খালিশপুর ও দৌলতপুর মিলের শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় উৎপাদন শুরু করে।
এদেকে বিজেএমসির মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মো. আব্দুল মালেক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, খুলনার দৌলতপুর জুট মিলে দুই সপ্তাহ, খালিশপুর জুট মিলের তিন সপ্তাহ এবং নওয়াপাড়ার কার্পেটিং জুট মিলের পাঁচ সপ্তাহের মজুরি পরিশোধ করার জন্য অর্থ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ওই তিনটি মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দেওয়া হবে এক মাসের বেতন। উৎপাদন বন্ধ থাকা প্লাটিনাম, ক্রিসেন্ট,স্টার, আলীম, জেজেআই ও ইস্টার্ন মিল চালু হওয়ার পর বকেয়া মজুরি-বেতন ও ২০ ভাগ মহার্ঘ ভাতার বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই আদেশে।
কার্পেটিং মিলের প্রকল্প প্রধান বনিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, বি-টুইল পণ্য এই মিলে উৎপাদন হয় না। যে কারণে সুদানের কোনও টাকা কার্পেটিং মিল পায়নি। খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন মিলের কাছে তাদের অনেক টাকা পাওনা রয়েছে। এই অর্থ দিয়েই শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধের জন্য বিজেএমসি নির্দেশ দিয়েছে।
আলীম জুট মিল প্রকল্প প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মারুফ হোসেন জানান, তার মিল ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা পেলেও মিলের মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় ব্যাংক থেকে কোনও টাকাই তুলতে পারছেন না। এ কারণে শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পরিশোধ করতে পারছেন না।
বিজেএমসি সূত্রে জানা গেছ, সুদানে পাটজাত পণ্য বিক্রির একশ কোটি টাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের বকেয়া পরিশোধে দিয়েছে গোল্ডেন ফাইবার ট্রেড সেন্টার লি.। গত ২৩ জানুয়ারি সকালে পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্ব স্ব গোল্ডেন ফাইবার ট্রেড পাটকলের অ্যাকাউন্টে একশ কোটি টাকা পাঠায়। খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৮ পাটকলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা জমা পড়েছে। এর মধ্যে ক্রিসেন্টে ১০ কোটি ৬৩ লাখ, প্লাটিনামে ৯ কোটি ৭৮ লাখ, খালিশপুরে ৩ কোটি ৭৮ লাখ, স্টারে ২ কোটি ২৫ লাখ, দৌলতপুরে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৩৩ হাজার, আলীমে ১ কোটি ৯৭ লাখ, ইস্টার্নে ৮৬ লাখ, জেজেআইয়ে ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা রয়েছে। এ অর্থে শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া মজুরি-বেতন ও ২০ ভাগ মহার্ঘ ভাতার বকেয়া পরিশোধের জন্য প্রকল্প প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চালু পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধেরও নির্দেশ দিয়েছে বিজেএমসি।
বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি)নিয়ন্ত্রণাধীন সারাদেশের পাটকলগুলোর জন্য একশ কোটি টাকা দিয়েছে বিজেএমসি। এছাড়া সুদানে পাটজাত পণ্য বিক্রির অর্থও পাটকলে দেওয়া হয়। যা দিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া মজুরি-বেতন ও ২০ ভাগ মহার্ঘ ভাতার বকেয়া পরিশোধ করা হবে। তবে উৎপাদন চালু থাকা মিলগুলোর বকেয়া পরিশোধের নিদের্শ দিয়েছে বিজেএমসি।