ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও’র অফিস সহকারী

মাগুরামাগুরা জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে ঘুষের এক লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন ইউএনও’র অফিস সহকারী ফসিয়ার রহমান। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। গত সেপ্টেম্বরে মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী মনিরা খাতুনের কাছ থেকে এ ঘুষের টাকা নিয়েছিলেন তিনি। ফসিয়ার তৎকালীন একই অফিসের অফিস সহকারী ছিলেন। বর্তমানে তিনি মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদে একই পদে কর্মরত।
এ বিষয়ে মনিরা খাতুন জানান, মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে শহীদ আব্দুর রশিদ মার্কেটের সম্প্রসারিত অংশের একটি দোকান বরাদ্দ নেওয়ার জন্যে তিনি ফসিয়ারের সঙ্গে গত বছর সেপ্টেম্বরে যোগাযোগ করেন। এ সময় ফসিয়ার তার কাছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। তখন তিনি ফসিয়ারকে ১ লাখ টাকা দেন। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে যে দোকান ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয় সেখানে চুক্তি মূল্য মাত্র ২০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি বিষয়টি মাগুরার জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমানকে জানালে বুধবার জেলা প্রশাসক ফসিয়ারকে নিজ কক্ষে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। পরে জেলা প্রাশাসক ফসিয়ারকে তাৎক্ষণিক ঘুষের টাকা ফেরত দিতে বলেন। কিছু সময় পর ফসিয়ার তাকে ১ লাখ টাকা ফেরত দেন।
মনিরা খাতুন জানান, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ফসিয়ার রহমানকে চুক্তি মূল্য ২০ হাজার টাকা রেখে অতিরিক্ত ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু ফসিয়ার পুরো ১ লাখ টাকাই ফেরত দিয়ে দেন।
মাগুরা জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফসিয়ার রহমান বলেন, ‘সহকর্মী মনিরা খাতুন ঘর পাওয়ার জন্য জোর করে টাকা দিয়েছিলেন। এর সঙ্গে অন্যদের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও টাকা যেহেতু আমি নিয়েছি তাই নিজেই দায়ভার নিয়ে পুরো টাকা ফেরত দিয়েছি।’