মৃত ভেবে ফেলে দেওয়ার আগ মুহূর্তে কেঁদে ওঠলো শিশুটি

 

খুলনা

খুলনার দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নজিরবিহীন অবহেলার দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে মৃত ভেবে কাপড়ে মুড়িয়ে টেবিলের ওপর ফেলে রাখেন সেবিকারা। ফেলে রাখার ৩ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার ভোরে ক্লিনার এসে মৃত ভেবে ফেলে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করলে শিশুটি কেঁদে ওঠে। ঠিক তখনই ডাক্তার এসে তারাতারি শিশুটিকে খুলনা শিশু হাসপাতালে পাঠানন। নবজাতক এখন খুলনা শিশু হাসপাতালের ৭নং ইনকিউবেটরে রয়েছে। সময় মতো অক্সিজেন না পাওয়ায় ও ওজন কম থাকায় শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

দাকোপ উপজেলা সমবায় অধিদফতরের অফিস সহকারী পুরঞ্জন গাইন বলেন, ‘আমার স্ত্রী সোমা গাইনের প্রসব ব্যাথা উঠলে বুধবার রাত ২টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে সোমার একটি ছেলে হয়। প্রসবের পর চিকিৎসক ও নার্স শিশুটিকে মৃতভেবে টেবিলের ওপর কাপড় মুড়িয়ে ফেলে রাখে। সকালে হাসপাতালের আয়া ফেলে দিতে গেলে শিশুটি কেঁদে ওঠে।’
শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘শিশুটি অপুষ্টি ও শ্বাসকষ্টে রয়েছে। এছাড়াও ওজন মাত্র ৮শ’ গ্রাম। স্বাভাবিক চেয়ে ওজন খুবই কম। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শিশুটি এখনও (রাত সাড়ে ১১টা) আশঙ্কামুক্ত  নয়। 
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিব।’
গৃহবধূ সোমা গাইন বলেন, আমার শিশুকে মৃত ভেবে টেবিলের ওপর রেখে দেওয়া হয়। আমি তাদের বলি আমার শিশুটি মারা যায়নি, ওর পা নড়ছে। তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর শিশুটিকে ফেলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলে। ঠিক তখনই কেঁদে ওঠে।

উল্লেখ্য, প্রসব বেদনা উঠলে গৃহবধূ সোমা গাইনকে বুধবার রাতে দাকোপ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। রাত ১২টার পর সোমা গাইনের তিব্র ব্যাথা ওঠে। পাশে ডিউটিরত নার্সদের ডেকেও কোনও সাড়া পাননি সোমার স্বজনরা। সোমায় ব্যাথায় ছটফট করতে থাকেন।এর কিছুক্ষণ পর অর্ধেক বাচ্চা বেরিয়ে আসলে, চিৎকার শুনে নার্সরা ছুটে আসেন। 

আরও পড়ুন: সাভার ও আশুলিয়ায় বিএনপির ১৫ নেতাকর্মী আটক