যশোরের মণিরামপুরের বাহাদুরপুর তপবন আশ্রমে সন্ত্রাসী হামলায় অধ্যক্ষ গৌতম মহারাজসহ (৪৬) চার জন আহত হয়েছেন। রবিবার রাত ১০টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় সন্ত্রাসীরা আশ্রম ভাঙচুর করে।
আহত গৌতম মণিরামপুর বাজার এলাকার মৃত মদনমোহন দাসের ছেলে। আহত অপর তিন জন হলেন, বাহাদুরপুর এলাকার রঞ্জন দাসের ছেলে চন্ডি দাস (২৮), নিমাই দাসের ছেলে রাজেন দাস (৪৫) ও রাজেন দাসের স্ত্রী নমিতা রানী দাস (৪০)।
আহতদের মধ্যে গৌতম ও নমিতা দাসকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছেন। অপর দুইজন মণিরামপুর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত গৌতম দাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আধিপত্য বিস্তার ও ঘেরে পানি সেচ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে রবিবার রাতে ও সোমবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে।
গৌতম মহারাজ সাংবাদিকদের জানান, বাহাদুরপুরের তপবন আশ্রমের প্রতি স্থানীয়দের এক সময় অনাস্থা ও অনীহা ছিল। আশ্রমে মানুষ আসা যাওয়া করতো না। কয়েক বছর ধরে তিনি আশ্রমের দায়িত্ব নেওয়ার পর দল মত নির্বিশেষে মানুষ সেখানে আসা যাওয়া শুরু করেন। এই দেখে স্থানীয় হরিদাস মল্লিক মাস্টার আশ্রমে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। এ নিয়ে তার সঙ্গে হরিদাস মল্লিকের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে হরিদাসের নেতৃত্বে স্থানীয় রবিউল, আলিম, ইসলাম, আরিফ, হাবিবুল্লা (১) ও হাবিবুল্লাহসহ ৪০-৫০ জন রাতে আশ্রমে হামলা চালিয়ে মারধর ও ভাঙচুর করে।
স্থানীয় বাহাদুরপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হরিদাস মল্লিক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় মন্তব্য করে বলেন, ‘গৌতমের এই এলাকায় প্রায় ২০০ বিঘার একটা ঘের আছে। ঘেরের পাশের জমির মালিকরা তাদের জমিতে জমে থাকা পানি সেচে সেখানে ধান লাগাতে চাচ্ছে। বিলের পানি সেচা হলে তা গৌতমের ঘের দিয়ে বের হবে। এই নিয়ে জমির মালিকরা গৌতমের সঙ্গে কথাও বলেছে। সেই অনুযায়ী ৫-৬টা স্যালোমেশিনে পানি সেচা হচ্ছিল। গৌতম তার লোকজন দিয়ে সেই মেশিন বন্ধ করে দেয়। এই নিয়ে মধুপুর এলাকার জমির মালিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে দুই তিনশ’ লোক আশ্রমে হামলা চালায়।
হরিদাস মল্লিক বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারের প্রশ্নই ওঠে না। গৌতমের আচরণ ভালও নয়। সে এলাকার কৃষকদের ও লোকজনের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এ কথা যাদে প্রকাশ না পায় তার জন্য আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে।’
যশোর জেলা পরিষদের সদস্য গৌতম চক্রবর্তী বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে মণিরামপুর হাসপাতালে এবং রাতেই দুজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসক অজয় কুমার সরকার জানান, আহতরা মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তাদের সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। একজনের হাত ভেঙে গেছে। ২৪ ঘণ্টা পার না হলে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, ‘ঘেরের পানি সেচাকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি। বিষয়টি গভীরভাবে দেখা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: রূপা হত্যা মামলার রায় ১২ ফেব্রুয়ারি