বাগেরহাটে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

বাগেরহাটবাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সোহরাব হোসেন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আদালত এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন ও ২৯ জনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত ৩১ আসামির প্রত্যেককে অর্থদণ্ডও দিয়েছে। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিসহ ছয় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নিহত সোহরাব আলী শেখ বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার গাজিরহাট গ্রামের বাসিন্দা।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলো বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা গ্রামের ইউসুফ তরফদারের ছেলে ডেমা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতহার আলী ওরফে পরান বাবু  এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম আব্দুর রশিদ।

আদালত আসামি আতহার আলী ওরফে পরান বাবুকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, আব্দুর রশিদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। এছাড়া অপর ২৯ আসামিকে ১৪৭ ধারায় দুই বছর এবং ১৪৮ ধারায় তিন বছর করে কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে পৃথক দুটি ধারায় দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ২৯ আসামিকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ৫ মাস করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলো সিদ্দিকুর রহমান, হান্নান, রবিউল শিকদার, রাজ্জাক শিকদার, বাবুল হাওলাদার, আব্দুর রব শেখ, আব্দুল করিম শেখ, খলিল শেখ, হাদিস গাজী, মোজাহার গাজী, আনোয়ার হাওলাদার, কালা বাবুল, দিপু ওরফে দিপংকর, হাকিম, হেমায়েত, রফিকুল ইসলাম, আব্দুর রব শিকদার, ফরহাদ হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল ওহাব, গোলাম ফারুক, বাবুল হাওলাদার, পিকলু সরদার, শুক ওরফে সুলতান, মাসুদ শেখ, তরিকুল ইসলাম, মোজাহার ওরফে মোতাহার গাজী, আসাদ শেখ ও আজাহার ওরফে মোজাহার তরফদার।

আসামিদের সবার বাড়ি বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন গ্রামে বলে জানা গেছে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাড়ি দখলের উদ্দেশে আসামিরা ২০০১ সালের ১৮ জুন সকাল ১০টার দিকে পরান বাবু ও ইউসুফ আলীর নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল গাজিরহাট গ্রামের সোহরাব আলীর বাড়িতে যান। এসময় তারা বাড়িটি ঘিরে সোহরাবসহ তার পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে সোহরাব বাড়ি থেকে বের হয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আসামিরা ধাওয়া করে তাকে গুলি এবং কুপিয়ে হত্যা করে। যাওয়ার সময় আসামিরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে উল্লাস করতে করতে চলে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কহিনুর বেগম ওই দিন ২৬ জনেরে নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক মো. রেজাউল ইসলাম মামলার তদন্ত শেষে ওই বছর ১১ ডিসেম্বর ৩৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানিকালে ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে ওই দণ্ডাদেশ ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সীতা রাণী দেবনাথ। আসামি পক্ষে ছিলেন  ড. এ কে আজাদ ফিরোজ টিপু।