সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন,‘সুন্দরবন না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। সুন্দরবন না থাকলে দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ উদ্বাস্তু হবে। আর এ কারণে সুন্দরবন রক্ষার দাবি শুধুমাত্র দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের নয়, এটা দেশের সব বিবেকবান মানুষের দাবি।’ বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে সুন্দরবন দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন,‘বর্তমান সরকার সুন্দরবন রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। শুধু বন বিভাগ নয়, সুন্দরবন রক্ষার এ উদ্যোগ সফল করতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
প্রতি বছরই বিশ্ব ভালবাসা দিবসে ‘সুন্দরবনকে ভালবাসু’ন এই স্লোগানকে সামনে রেখে সুন্দরবনের কাছাকাছি জেলাগুলো দিবসটি পালন করে। এবারও খুলনা জেলা প্রশাসন, বন অধিদফতর, ইউএসএইড বাঘ অ্যাকটিভিটি, ওয়াইল্ড টিম, সুন্দরবন একাডেমি, খুলনা প্রেস ক্লাব ও রূপান্তরের যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বন অধিদফতর খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, খুলনার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনার জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান, খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফারুক আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির। সুন্দরবনের বর্তমান পরিস্থিতি ও উদ্যোগের ওপর আলোকপাত করেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল-আল-মামুন। আলোচনা করেন খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বেগম ফেরদৌসী আলী এবং ওয়াইল্ড টিম এর রিজিওন্যাল ম্যানেজার মাহাবুবুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রূপান্তর এর নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ।
প্রধান অতিথির ভাষণে মেনন আরও বলেন,‘দেশে অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্প বিকাশ লাভ করছে। বর্তমানে বছরে প্রায় এক কোটি মানুষ দেশের ভেতরে ভ্রমণ করছেন। এর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ সুন্দরবনে ভ্রমণে আসেন। কিন্তু সুন্দরবনে আসা পর্যটকরা সুন্দরবনের পরিবেশ নষ্ট করছে। এখানে ইকো ট্যুরিজম ছাড়া অন্য কোনও ধরণের পর্যটন বা প্রমোদ ভ্রমণ কড়াকড়িভাবে বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন,‘দেশের অস্তিত্বের সঙ্গে সুন্দরবনের যোগ রয়েছে। প্রয়োজনে সুন্দরবন বিষয়ক একটা কমিশন গঠনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে এক করে একটা প্রতিষ্ঠান করা যেতে পারে। এছাড়া পদ্মা সেতু নির্মাণের পর এ এলাকায় ব্যাপকভাবে শিল্পায়ন হবে। কিন্তু কোনও শিল্প প্রতিষ্ঠান যাতে পরিবেশ এবং সুন্দরবনের ক্ষতি করতে না পারে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের তৎপর থাকতে হবে।’
খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘সুন্দরবন আমাদের জীবনের অংশ। প্রায় এক লাখ বছর ধরে এই বন মানুষ এবং প্রকৃতির উপকার করে যাচ্ছে। যে কোনও মূল্যে এই বনকে রক্ষা করতে হবে।’ তিনি সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এ ধরণের সব পর্যটন বন্ধের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা ১৪ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস হিসেবে পালনের জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
আরও পড়ুন: বিষপানে দুই কিশোরীর আত্মহত্যা