খলিলুর রহমান জানান, ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকার জগন্নাথ কলেজে বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ আন্দোলনে যখন ঢাকার রাজপথ উত্তপ্ত, তখন তিনি যোগ দেন ভাষা আন্দোলনে। নিয়মিত মিছিল, মিটিংয়ে অংশ নিতেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল থেকে শুরু হওয়া মিছিলে পুলিশ যখন বৃষ্টির মতো গুলি করে তখন তিনি ছিলেন মিছিলের অগ্রভাগে। তার চোখের সামনেই গুলিবিদ্ধ হন সহপাঠীরা। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে যান। পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় গায়েবানা জানাজায় তিনি অংশ নেন। জানাজা শেষে পুনরায় হামলা হয় তাদের ওপর। খলিলুর রহমান সে সময়ের সতীর্থদের নাম স্মরণে আনতে না পারলেও স্মৃতিপটে ভাসে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির সেই দিনটির কথা।
ভেড়ামারা পৌরসভার মৃত ডা. বাবর আলীর বড় ছেলে ভাষাসৈনিক খলিলুর রহমান ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে ভেড়ামারা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর নেন।
চাওয়া-পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জীবনের শেষ সময়ে এসে ভাষা সৈনিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলে ভালো লাগবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা হওয়ায় স্বপ্ন কিছুটা পূরণ হয়েছে। তবে বাংলা ভাষার প্রয়োগটা এখনও সুন্দরভাবে না হলেও সেটি হতে যাচ্ছে।’
ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না মিললেও স্থানীয়ভাবে গত ২০ জানুয়ারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি তাকে সম্মাননা দিয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ভেড়ামারা ব্যবসায়ী বনিক সমিতিও তাকে সম্মামনা জানিয়েছে।
তার ছেলে রুহুল কুদ্দুস ভেড়ামারা বাজারে একটি হোমিও চিকিৎসালয়ে কাজ করেন। তিন মেয়ে শাহিন, খোরশেদা ও রেহেনার বিয়ে দিয়েছেন। তারা সবাই গৃহিনী।
ভোড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সোহেল মারুফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমান রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য কোনও আবেদন করেননি। আগামী রবিবার ডিসি স্যারের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে আলোচনা করবো।’