সরকার পক্ষের আইনজীবী বলছেন, উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি। তিনি আশা করছেন, আবার বিচার শুরু হবে দেশজুড়ে তুমুল আলোচিত এই মামলার।
অনেকে ধারণা করেন, উদীচীর ওই অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে জঙ্গিরা তাদের বড় ধরনের অপারেশন শুরু করে। যদিও মামলার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় যাদের অভিযুক্ত করেন, তাদের কেউ জঙ্গি নন।
নারকীয় ওই ঘটনায় প্রিয় সন্তানের শোক ও বিচার না পাওয়ার বেদনায় আজও বোবা কান্নায় দিন পার করেন তপনের মা শামছুন নাহার। ৭০ বছরের বেশি বৃদ্ধা এই মা প্রত্যাশা করেন তার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার হবে।
বোমার আঘাতে দুেই পা হারিয়ে জীবনযাপন করছেন শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা রোড এলাকার নূর ইসলাম নাহিদ। ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে না পারায় ক্ষত পায়ে বাসা বেঁধেছে গ্যাংগ্রিন। যে কারণে গত দুই বছর তিনি বাড়ির বাইরে বেরুতে পারেননি।
এমন কষ্ট নিয়ে জীবনযাপন করছেন আহত আরও অনেকে। তাদের প্রধান চাওয়া- দোষিরা অন্তত চিহ্নিত হোক।
আলোচিত মামলাটির বিচার নিয়ে সরকারের আন্তরিকতায় সন্দিহান উদীচী যশোরের সংগঠকরা। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু মনে করেন, ‘এ ঘটনার বিচার না হওয়ায় দেশে পরবর্তীতে বড় ধরনের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো ঘটেছে।’
এদিকে, সরকার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উচ্চ আদালতে শুনানির জট কাটলে মামলাটির ফের বিচার শুরু হবে।’
বোমা হামলার ভয়াবহ সেদিনটি স্মরণে আজ উদীচী যশোর শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শহীদ স্মারকে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হবে।