সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনকে ঘিরে খুলনার সর্বত্রই আলোচনার ঝড় বইছে। বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী থাকলেও বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনির ওপর কেন্দ্রের আস্থা থাকায় বাছাই প্রক্রিয়া সহজ রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবার জয়লাভের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে উঠতে পারে। তারপরও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী বিএনপি নেতারা।
পাশাপাশি খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। তিনি এরইমধ্যেই তৃণমূলে প্রচার প্রচারণা চালানোসহ কেন্দ্রে লবিং শুরু করেছেন। মঞ্জুর সঙ্গে তার সখ্যতা থাকলেও মেয়র পদে মনোনয়ন না পেলে তিনিও বর্তমান মেয়রের বিপক্ষে সোচ্চার হয়ে উঠতে পারেন বলে আশঙ্কা নেতাকর্মীদের।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘মহানগর বিএনপির কমিটিতে ১৮ জন সম্পাদক রয়েছেন। এর মধ্যে ১ জন বিচ্ছিন্নভাবে বিপক্ষে অবস্থান নিলে একটি পক্ষ হয়ে যায় না। খালিশপুর ও দৌলতপুর বিএনপির ঘাঁটি। সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার দুর্গের মতই শক্ত অবস্থান রয়েছে সেখানে। বিএনপি একটি বড় দল। বড় দলে অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকতেই পারে। কোনও বিরোধই নির্বাচনে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলবে না।’
খুলনার বর্তমান মেয়র মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘২০১৩ সালের নির্বাচনেও বিএনপিতে বিরোধ ছিল, কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা অভ্যন্তরীণ মতবিরোধকে নির্বাচনের মাঠে আনেননি বরং তারা দলীয় স্বার্থকে সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এবারও নির্বাচনের আগে কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা জেগে উঠলেও কর্মীরা দলীয় স্বার্থ রক্ষায় আগের মতই ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করবেন। ফলে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনোরকম সমস্যা বিএনপিতে হবে না।’
খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা জানান, কেসিসিতে মেয়র পদে নির্বাচন নিয়ে তিনি এরইমধ্যেই বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নেবেন। আর মনোনয়ন না পেলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে পূর্ণ শক্তি নিয়ে কাজ করতেও প্রস্তুত রয়েছেন।