এদিকে খুলনা মহানগর বিএনপির নেতারা বুধবার (১১ এপ্রিল) রাতে এক বিবৃতিতে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তারা এ ব্যাপারে তৎপরতা বন্ধে নির্বাচন কমিশনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুস আলী বলেন, ‘আগামী ২৪ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দের পরই প্রার্থীরা প্রচারণায় নামতে পারবেন। এর আগে প্রচারণা চালালে আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে।’
রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার আগে কোনও প্রার্থী বা তাদের সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণা চালানোর সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগে জানা গেছে, রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেই প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন কেসিসি নির্বাচনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। মিছিল নিয়ে মেয়র প্রার্থীরা ছুটছেন। ছুটছেন সাধারণ কাউন্সিলর, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরা ও সমর্থকরাও। এছাড়া রঙিন পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, স্টিকারের ছড়াছড়ি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার আগেই দলীয় প্রতীক দিয়ে রঙিন পোস্টার ছাপিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি মনোনীত মেয়র প্রার্থী দলের নগর সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবুও বুধবার নেতাকর্মী নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। প্রার্থীরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে ভোটারদের কাছে ছুটছেন। ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমের পাশাপাশি মিছিল-সমাবেশও করছেন।
বুধবার বিকালে আওয়ামী লীগের মেয়র পদে তালুকদার আব্দুল খালেককে অভিনন্দন জানিয়ে বিশাল আনন্দ মিছিল করেছে মহানগর যুবলীগ। এর আগে ছাত্রলীগ ও দলের অঙ্গসংগঠন আনন্দ মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেছে।
২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাহবুব কায়সার অভিযোগ করে বলেন, ‘ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বিকু কাজী এলাকায় রঙিন পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করছেন। এলাকায় তার পক্ষে মিছিলও হয়েছে। নির্বাচনে রঙিন পোস্টার নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না।’
সম্ভাব্য প্রার্থী বিকু কাজী বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই প্রয়োজনীয় প্রচারণা করা হচ্ছে।
মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত দুদিন ধরে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর রঙিন ছবি ও দলীয় নৌকা প্রতীক নিয়ে নগরীতে মিছিল করেছে।
বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘গত ৯ বছরে আমরা খুলনায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখেছি, হত্যাকাণ্ডও দেখেছি। এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে হবে।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও নগর সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমরা ৫ বছর সিটি করপোরেশনে ছিলাম না। এখন নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। তারা তো আর ভোট চায় নাই। তারা নৌকা নৌকা বলে মনের অভিপ্রায় প্রকাশ করতেই পারে। আমরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ২৪ এপ্রিল থেকে প্রকাশ্যে ভোট চাইবো।’
জানা গেছে, মেয়রের একটি, সাধারণ কাউন্সিলরের ৩১টি ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের ১০টিসহ ৪২টি পদের জন্য ইতোমধ্যে ৩৫২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে মেয়র ৮, সাধারণ কাউন্সিলর ২৮২ ও সংরক্ষিত আসনে ৬২ জন প্রার্থী রয়েছেন। বুধবার পর্যন্ত মেয়র পদে ১টি, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৪ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭টি মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে বিধিমালা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। আগাম প্রচার সামগ্রী অপসারণে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের নিজ নিজ প্রচার সামগ্রী অপসারণের অনুরোধ করা হলে সাড়া পাওয়া যায়। তারপরও কিছু এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হচ্ছে।’
এদিকে খুলনা মহানগর বিএনপির নেতারা বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কেসিসি নির্বাচনি তৎপরতার শুরুতেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তালুকদার আব্দুল খালেকের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রমিক লীগ আনন্দ মিছিল করেছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মহানগরসহ বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডে মিছিল করা হচ্ছে। মিছিল থেকে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অনেক স্থানেই হচ্ছে মিষ্টিমুখ। এছাড়া নামাজ শেষে মসজিদে মসজিদে ভোট চাইতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত অনেক প্রার্থী, যা নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন। এজন্য নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিএনপির পক্ষে বিবৃতি দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক এমপি এম নুরুল ইসলাম দাদু, মহানগর সভাপতি এবং আসন্ন কেসিসি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও কেসিসির মেয়র মনিরুজ্জামান মনিসহ অনেকে।