অভিযোগ উঠেছে, ইবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রুপের সালাহউদ্দিন আহমেদ সজল তাদের হুমকি দিয়ে নামিয়ে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ইবিতে আন্দোলন শুরুর দিন থেকেই বিরোধিতা করে আসছিল ছাত্রলীগ। প্রতিদিনই আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন হুমকি দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করতো তারা। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর কোটার পক্ষে আনন্দ মিছিল করলেও রাতেই অবস্থান পাল্টে ফেলে ছাত্রলীগ। বুধবার রাত দশটার দিকে সজল তার রুমে ডেকে নেন আন্দোলনকারীদের। এ সময় তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে তাদের হল থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন নিয়ন্ত্রিত ওই হল থেকে আন্দোলনকারীদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। আন্দোলন শুরুর পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জনকে হলছাড়া করার সংবাদ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আরও যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত ছিলেন তাদেরও বের করে দেওয়ার জন্য খোঁজা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিল্লাল ও আহসানুর বলেন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। কোটা সংস্কারের বিপক্ষে না থেকে যৌক্তিক আন্দোলনে শরিক হওয়াই আমাদের দোষ।’
এছাড়া নাইম, রাসেল, আশরাফুল, রাব্বুল, রবিউল, মেহেদী, রাশেদ, আশিকসহ অন্য ভুক্তভোগীরা জানান, ‘সারাদেশে যৌক্তিক আন্দোলন হয়েছে। আমাদের ভাই-বোনেরা মার খাচ্ছে। আমরা এসব সহ্য করতে না পেরে আন্দোলনে শরিক হয়েছি। লালন শাহ হলে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠায়ও আমরাই সামনে ছিলাম। আজ হুমকি দিয়ে আমাদের নামিয়ে দেওয়া হলো।’
এ ব্যাপারে সজল বলেন, ‘দলীয় কমান্ড ভঙ্গ করায় তাদের হল থেকে নেমে যেতে নির্দেশ দিয়েছি। এটা সম্পূর্ণ আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।
লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে এখনও কিছু জানি না। তবে ভুক্তভোগীদের ভেতর কেউ যদি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী থাকে তাহলে তাদের বিষয়টি আমরা দেখবো।’
আরও পড়ুন-
যেসব দাবি জানালেন আন্দোলনকারীরা
আন্দোলন স্থগিত, শেখ হাসিনা ‘মাদার অব এডুকেশন’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই কোটা বাতিলের ঘোষণা