এলাকাবাসী জানিয়েছেন, প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে তাদেরকে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। আর সহজে যেতে চাইলে নদ পার হয়ে যেতে হয়। শুকনো মৌসুমে নদের পানি কমে গেলেও ভৈরব নদের মাঝ বরাবর কচুরিপানার স্তুপের ওপর দিয়েই যেতে হয়। এতে দুর্ভোগের কারণে অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক পর্যায়েই ঝরে পড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতাপপুর, রঘুনন্দনপুর ও লক্ষিপুর গ্রামের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য তাদের প্যান্ট গুটিয়ে কচুরিপানার স্তুপের ওপর দিয়ে হেঁটে ভৈরব নদ পার হচ্ছে।
প্রতাপপুর গ্রামের মনির হোসেন বলেন, ‘প্রতাপপুর, রঘুনন্দনপুর ও লক্ষিপুর গ্রামে প্রাথমিক পর্যায়ের কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। এ কারণে একপ্রকার বাধ্য হয়ে আমরা আমাদের সন্তানদেরকে ভৈরব নদের ওপাশে জীবননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করি। সন্তানরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদ পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়। নদ পার হতে সমস্যা হওয়ায় অনেকে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী নদের ওপাশ থেকে আসে। নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।’
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. ইকতিয়ার আলী বলেন, ‘ভৈরব নদের ওপর সেতু না থাকায় তিন গ্রামের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছে।’
জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল বলেন, ‘ভৈরব নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য আমি ইতোমধ্যেই এলজিইডির পিডির নিকট আবেদন করেছি। কিন্তু উপজেলা পরিষদ পৌরসভার মধ্যে কোনও কাজ করার এখতিয়ার রাখেনা। এ কারণেই ভৈরব নদের ওপরে সেতু নির্মাণের অনুমতি পেতে বিলম্ব হচ্ছে।’