স্থগিত ঘোষণার ৫ ঘণ্টা পরই প্রচারণায় ফিরলেন মঞ্জু

সংবাদ সম্মেলন করে প্রচারণায় ফেরার ঘোষণা দিলেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুখুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে প্রচারণা কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তবে এই ঘোষণার ৫ ঘণ্টা পরই প্রচারণায় ফিরলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৩ মে) ২০ দলীয় জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও প্রেস ব্রিফিং শেষে বেলা ২টার দিকে মঞ্জু দলীয় কার্যালয়ের আশপাশ এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মঞ্জু আনুষ্ঠানিকভাবে ফের প্রচারণায় নামবেন বলে নিশ্চিত করেছেন মহানগর বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক সামছুজ্জামান চঞ্চল।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাসভবনে প্রেস ব্রিফিং করে নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেন মঞ্জু। এরপর বেলা ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মঞ্জু। বৈঠক শেষে বেলা ১২টায় দলীয় কার্যালয়ে ডাকা প্রেস ব্রিফিংয়ে মঞ্জু বলেন, ‘নির্বাচনি কার্যক্রম থেকে বিএনপি সরে দাঁড়াবে না। ধারাবাহিক অত্যাচার-নির্যাতন সত্ত্বেও বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাবে না। এই শহরের জনগণ বিএনপির পাশে আছে। আর সরকারি দলের পাশে রয়েছে পুলিশ, সন্ত্রাসী ও কালো টাকা। এরপরও কোনও অবস্থাতেই আমরা নির্বাচনি বিজয় ছিনিয়ে নিতে দেবো না।’

মঞ্জু অভিযোগ করে বলেন, ‘বুধবার রাত ৮টা থেকে সারা রাত পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে। বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মুরাদ ও যুবদল নেতা মাহবুব হাসান পিয়ারুসহ ১৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। নেতাকর্মীরা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। আমি রাতেই রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ কমিশনারকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু কেউ আমার ফোন ধরেনি। ভয়ার্তভাবে আমার নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার ভোরে আমার বাড়িতে এসেছে। আমি তাদের বলেছি, আমরা কোনও অবস্থাতেই নির্বাচন থেকে সরে যাবো না। এই শহরের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে যেন ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা মাঠে না থাকতে পারে। বুধবার আমরা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনও অভিযোগেই তারা কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তফসিল ঘোষণার পর সবকিছু পরিচালনা হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে। কিন্তু এখানে তা হচ্ছে না। আগামী ৬ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার খুলনায় আসবেন। তিনি আসার আগে যদি এই সব অভিযোগের নিষ্পত্তি না করে আসেন তাহলে তার বৈঠক বর্জন করা ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফ গল্লামারী ও রূপসা ব্রিজের পাদদেশে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই নির্বাচনের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। এটা আমরা আগে আঁচ করতে পেরেছিলাম জনগণের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এখন দেখছি ভোট ডাকাতির পাঁয়তারা চলছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষের ভাষা বুঝতে পেরেছি। জনগণ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩০/৩৫ বছরে এই শহরে অংশগ্রহণমূলক কোনও নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হয়নি। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। বর্তমান সরকার চরম ইমেজ সংকটে আছে। এই ইমেজ সংকট কাটাতে আমাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। এই সিটি করপোরেশন নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয়, তাহলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না।’ তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করার আগে কেসিসি নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ২০ দলীয় জোটের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, সাহারুজ্জামান মোর্তজা, মশিউর রহমান, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, আহসান হাবিব লিংকন, খন্দকার লুৎফর রহমান, মো. গোলাম মোস্তফা ভূইয়া প্রমুখ।

আরও পড়ুন- বিএনপির ১৯ নেতাকর্মী গ্রেফতার, প্রতিবাদে মঞ্জুর নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত