নড়াইলে মানহানির মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর

খালেদা জিয়া

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে নড়াইলে দায়ের করা মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৮মে) দুপুরে নড়াইল সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন বড়াল এ আবেদন নামঞ্জুর করেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিন আবেদন করেন বিএনপির নড়াইল জেলার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন সিকদার।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন সিকদার বলেন,‘নড়াইলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।’

এ ব্যাপারে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম খান বলেন, ‘আদালতের এ আদেশে আমরা সন্তুষ্ট। এ মামলায় ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আদালত। সমন গ্রহণ না করায় ২৩ আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।’

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সমাবেশে খালেদা জিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বির্তক আছে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া একই সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে তাকে (বঙ্গবন্ধু) ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তিনি স্বাধীনতা চাননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি।’ তার এই বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করেন নড়াইলের জেলা পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য ও নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ফারুকী ইমাম। পরে তিনি ২৪ ডিসেম্বর (২০১৫) খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে নড়াইলের আদালতে ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে আরও একটি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে ওই দিনই (২৯ ডিসেম্বর) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামেও একটি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দুটি দায়ের করেন শহীদ শেখ জামাল জাতীয় স্মৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কালিয়া উপজেলার যাদবপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ আশিক বিল্লাহ।