চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দহুদা গ্রামে পুলিশের সঙ্গে ডাকাত দলের সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। নিহত মিরাজুল ইসলাম মিরা (৪৩) ডাকাত সর্দার বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার রাতে পুলিশ হেফাজতে থাকা মিরাজুল ইসলাম মিরাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে বের হলে তার সহযোগীদের সঙ্গে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ১টি দেশি শাটারগান, ২ রাউন্ড গুলি ২টিসহ বোমা ও ২টি ধারালো হাসুয়া উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার হাতিভাঙ্গা গ্রামের মৃত হাফেজ মণ্ডলের ছেলে মিরাজুল ইসলাম মিরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে বুধবার বিকালে কার্পাসডাঙ্গা ফাঁড়ি পুলিশ ২ রাউন্ড গুলিসহ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকরাম হোসেন জানান, গ্রেফতারের পর থানা কাস্টডিতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মিরাজুল তার কাছে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বুধবার দিনগত রাত ১টার দিকে মিরাজুলকে নিয়ে পুলিশের একটি দল অস্ত্র উদ্ধারে বের হয়।
পুলিশ দলটি রাত ২টার দিকে দামুড়হুদার-কার্পাসডাঙ্গা সড়কের গোবিন্দহুদা গ্রামে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা মিরাজুলের সহযোগীরা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে মিরাজুলকে ছিনিয়ে নিতে তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা বর্ষণ শুরু করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধা ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে ডাকাত সদস্যরা পিছু হটে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ডাকাত সর্দারের লাশসহ তাদের ফেলে যাওয়া একটি শাটারগান, ২ রাউন্ড গুলি, ২টি বোমা ও ২টি ধারালো হাসুয়া উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার সহকারী পুলিশ সুপার (হেড কোয়াটার) আহসান হাবীবও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
চুয়াডাঙ্গার সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবীব জানান, নিহত মিরাজুল ইসলাম মিরা চুয়াডাঙ্গার শীর্ষ সন্ত্রাসী জামু-আকরাম গ্যাং এর সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে ২টি ডাকাতি, ৩টি অস্ত্র, ১টি নারী সক্রান্ত ও ১টি অপহরণ মামলা রয়েছে।
বুধবার দিনগত রাত ৩টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত মিরাজুল ইসলাম মিরার লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।